প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান চত্বরে অটো-ইজিবাইক, রিকশা, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের ফলে রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহন এবং চিকিৎসকদের চলাচলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালে আসা রোগী রহমান, আয়শা, আরজিনা এবং তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, মূল চত্বরে বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে রোগী আনা-নেওয়ার সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী আরমান জানান, “অনেকেই গাড়ি নিয়ে এসে চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাড়ি সরাতে বললে অনেক সময় বাগ্বিতণ্ডা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে এতগুলো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা বড়ই কঠিন।”
মাদারীপুরের একজন স্কুলশিক্ষক আ. হক অভিযোগ করেন, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল চত্বরেই অবস্থান করছে। কেউ কারও কথা শুনছেন না, ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় শামীম, আরবানি ও এনামুল বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বর হওয়া উচিত জরুরি রোগীর দ্রুত চলাচল, চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং রোগীদের শান্তিপূর্ণ চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার স্থান। সেখানে অটো-ইজিবাইক, অ্যাম্বুলেন্সের জট, হর্ন ও হাঁকডাক নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়ছে চরমভাবে। কিন্তু এ বিষয়ে দেখার কেউ যেন নেই।
এ বিষয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সাংবাদিকদের ফোন ধরা নিয়ে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে প্রতিবেদকের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। অন্যদিকে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “হাসপাতালের বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হবে।” অথচ তিনিও সব কিছু জানেন কিন্তু কোনো দায়িত্ব নিতে চান না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আমরা বরাবরের মতোই বিষয়গুলো তুলে ধরি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেহেতু আবার নতুন করে হাসপাতাল চত্বরে ইজিবাইক এবং মাইক্রোবাস পার্কিং শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরকে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দখলমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন