প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থীদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যান। তিনি রোববার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক নির্বাচনের প্রথম পর্বে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। ভোটের আয়োজকেরা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
৪৬ বছর বয়সী গ্লুকসম্যান মধ্য-বামপন্থী দল প্লাস পাবলিকের নেতা। প্রাথমিক নির্বাচনে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৭৮৭ ভোটের মধ্যে তিনি ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
গ্লুকসম্যানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা অলিভিয়ে ফোর পেয়েছেন মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট। অন্য তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেই ১০ শতাংশের কম ভোট অর্জন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গ্লুকসম্যান মন্তব্য করেছেন, ‘এই ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বামপন্থীরা নিজেদের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, সরকার পরিচালনা করতে পারে এবং নির্বাচনে জয়ী হতে পারে।’
গ্লুকসম্যান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর নীতির বিকল্প হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। তিনি মনে করেন, কট্টর ডানপন্থীদের পরাজিত করা তার পক্ষে সম্ভব।
তবে বর্তমানে জনমত জরিপে তার সমর্থন ৯ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী মেরিন লে পেনের চেয়ে অনেক কম।
মাখোঁর অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মধ্য-ডানপন্থী নেতা এদুয়ার ফিলিপ এবং কট্টর বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর চেয়েও জরিপে পিছিয়ে রয়েছেন গ্লুকসম্যান। উল্লেখ্য, মেলঁশোঁর দল ফ্রান্স আনবোড নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।
গত আগস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে গ্লুকসম্যান নিজেকে ‘চিরাচরিত রাজনৈতিক’ বলয়ের বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বিদেশে তার অতীত কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যার মধ্যে রুয়ান্ডায় গণহত্যার পরবর্তী সময়ে কাজ করা এবং মস্কোবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত জর্জিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মিখাইল সাকাশভিলির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন। ইউক্রেনের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের জন্যও তিনি পরিচিত।
গ্লুকসম্যানের রাজনৈতিক অবস্থান সমাজতান্ত্রিক দলের তুলনায় বেশি সংস্কারপন্থী ও মধ্যপন্থী। অতীতে তিনি সমাজতন্ত্রীদের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন।
এবারও ঐতিহ্যবাহী সমাজতান্ত্রিক দলের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী প্রচারযন্ত্রের সুবিধা নিতে তিনি দলের সঙ্গে কাজ করা লাভজনক মনে করতে পারেন।
তবে বামপন্থীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেলঁশোঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।
সমালোচকদের মতে, গ্লুকসম্যান ‘অতিরিক্ত প্যারিসকেন্দ্রিক’ এবং সাধারণ ফরাসি নাগরিকদের দৈনন্দিন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে প্রেসিডেন্ট পদে বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হয়ে ওঠা তার জন্য কঠিন হতে পারে।
জবাবে তিনি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
গ্লুকসম্যান বলেছেন, ‘বিশ্ব সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাভাবনা ডাভোস কিংবা ওয়াশিংটনে গড়ে ওঠেনি; বরং এমন সব জায়গায় গড়ে উঠেছে, যেখানকার ধ্বংসযজ্ঞের গভীরতা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।’
চলতি গ্রীষ্মে ফ্রান্সজুড়ে নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি এমন একটি বামপন্থী কর্মসূচি তুলে ধরেন, যেখানে পরিবেশগত রূপান্তরের সঙ্গে সামাজিক অগ্রগতির সমন্বয় ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট আগামী বছর ১৮ এপ্রিল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফার ভোট এর দুই সপ্তাহ পর ২ মে অনুষ্ঠিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন