প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্যান্সার জয় করা ক্যাথরিন, দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস এবার ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যের তিনটি সর্বোচ্চ পর্বত চূড়া জয় করেছেন। ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়ামসের স্ত্রী প্রিন্সেস অব ওয়েলস, যাকে কেট মিডলটন নামে সবাই চেনে। তিনি ২০২৪ সালে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ২০২৫ সালে তা থেকে সেরে ওঠার ঘোষণা দেন।
গত সপ্তাহে কেট মিডলটন যুক্তরাজ্যের ‘থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নিয়ে তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যের অন্তর্গত তিনটি দেশ স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের সর্বোচ্চ তিনটি পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ করেন।
এই পর্বত তিনটি হলো-স্কটল্যান্ডের বেন নেভিস, ইংল্যান্ডের স্কাফেল পিক ও ওয়েলসের স্নোডন। ‘থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ’ জিততে হলে পর্বতারোহীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই তিন পর্বতের চূড়ায় উঠতে হয়।
কিন্তু নিছক অ্যাডভেঞ্চারের জন্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস এ অভিযানে যাননি। তার মূল লক্ষ্য ছিল নিজের ক্যান্সার চিকিৎসার পেছনে অবদান রাখা হাসপাতাল রয়্যাল মার্সডেন ক্যান্সার চ্যারিটির জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
রবিবার বেন নেভিসের চূড়ায় তোলা নিজের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে কেট মিডলটন লিখেছেন, "ক্যান্সার কেবল শরীরকেই আক্রান্ত করে না। এটি আপনার চিন্তা ও অনুভূতির ধরণ বদলে দেয় এবং জীবনের প্রতিটি দিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।"
নিজের ক্যান্সার চিকিৎসার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি জানি। চিকিৎসা চলাকালীন এবং এর পরবর্তী যাত্রা কেবল ওষুধের চেয়েও বেশি কিছু দাবি করে।"
রবিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ৪৪ বছর বয়সী প্রিন্সেস কেট মিডলটন বলেন, "অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাস করেছেন কেন আমি এই চ্যালেঞ্জটি বেছে নিলাম। এর একটি ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে। আমি আজ সুস্থ হয়ে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছি এবং এই পাহাড়গুলো পাড়ি দেওয়ার মতো শারীরিক শক্তি ফিরে পেয়েছি-এজন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ক্যান্সার চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালগুলোর অসাধারণ কাজের প্রতি সম্মান জানাতে এবং এর পেছনে যুক্ত মানুষদের অবদানকে স্মরণ করতেই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি এই পথটি কতটা কঠিন।"
প্রিন্সেসের এ মহত উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রয়্যাল মার্সডেন ক্যান্সার চ্যারিটি জানিয়েছে, "এটি ক্যান্সার আক্রান্ত আরও বেশি মানুষকে সামগ্রিক যত্নের সুবিধা পেতে সহায়তা করবে।"
উল্লেখ্য, ২০২৪ বছরের মার্চ মাসে কেট মিডলটন তার ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার খবর ও কেমোথেরাপি নেয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি পুনরায় রাজকীয় দায়িত্বে ফিরে আসেন।
এরপর গত বছর কেনসিংটন প্যালেস তাকে ও প্রিন্স উইলিয়ামকে ‘রয়্যাল মার্সডেন ক্যান্সার চ্যারিটি’র যৌথ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ঘোষণা করে। মূলত সেই হাসপাতালের তহবিল গঠন এবং ক্যান্সার পরবর্তী সুন্দর জীবনের বার্তা ছড়াতেই কেট এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন