প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝালকাঠির চাষীরা বাংলার আপেল খ্যাত পেয়ারা চাষে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছেন। মৌসূম শেষে আয়-ব্যায় হিসেব করে লাভজনক না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। এই কারণে পেয়ারা চাষের জমি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। ৫৬২৩ মেট্রিকটন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৬২ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৬০৪২ মেট্রিকটন। দুই বছরের ব্যবধানে পেয়ারার আবাদ কমেছে ৮ হেক্টর জমিতে।
বরিশাল অঞ্চলের পেয়ারার দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশিরভাগই ঝালকাঠি থেকে পূরণ হচ্ছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন হাটে পেয়ারা কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্টিকর এ ফল। বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় এবং লাভজনক না হওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই কমছে আমড়ার আবাদ।
এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পেয়ারার ফলন কম হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে পেয়ারা কিনছেন ৮শ থেকে এক হাজার টাকা মণ দরে। পেয়ারা চাষি ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেয়ারা আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এ জন্য ৮শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ পেয়ারা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
চাষি সুজন হালদার শানু জানান, আমড়া গাছে প্রতিবছর শীত মৌসূমে পরিচর্যা, সার-কীটনাশক প্রয়োগ, পেয়ারা সংগ্রহ, বাজারজাত করণে যে পরিমাণ খরচ হয়, তাতে বিক্রির অর্থ দিয়ে পোষানো যায় না। তিনি বলেন, মৌসূমে প্রতিদিনই পেয়ারা সংগ্রহ করতে হয়। একজন শ্রমিককে দিতে ৮শ টাকা। কিন্তু পেয়ারা বিক্রি করা যায় এক থেকে দেড় হাজার টাকার। অনেক সময় এর চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হয়। এরচেয়ে আমড়া বা অন্যান্য ফসল চাষ করলে তাতে লাভ বেশি হয়।
কীর্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বনামধন্য কৃষক ভবেন্দ্রনাথ হালদার জানান, পেয়ারা চাষে এখন আর লাভ নেই। এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে, তাতে আবার এনথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিনই গাছ থেকে পেড়ে (সংগ্রহ করে) বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিককে খরচ সাতশ টাকা দিতে হয়, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় চারশ টাকার। এর চেয়ে জমিতে আমড়ার আবাদ করলে লাভ বেশি হয়। প্রতিটি গাছে ৩-৪ মণ আমড়া ধরে। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০-১২টি গাছের আমড়া পাড়তে পারে। প্রতিদিন আমড়া পাড়তে হয় না, পরিপক্ব হলে এক দিনেই সব পাড়ানো সম্ভব। তা ছাড়া একটি বাতাবিলেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।
স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান বলেন, এবছর ফলন তেমন ভালো হয়নি। আমরা এখানে চাষিদের থেকে পেয়ারা কিনে ঢাকায় চালান করেছি। প্রতি মণ পেয়ারা আকার ও কালার ভেদে ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকায় ক্রয় করি। প্রতিমণ পেয়ারায় দুইশ’ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে একশ টাকা লাভ হয়।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে পেয়ারার চাষ হ্রাস পাচ্ছে। এবছর পেয়ারার চাষ কম হওয়ায় চাষিরা তাঁদের কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা তাঁদের উদ্বুদ্ধ করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন