প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ফারাহ আবু আইয়াশ ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকার এক বছর পূর্ণ করেছেন।
তার মুক্তি নিশ্চিতের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক বাধা এবং প্রশাসনিক আটকাদেশের মেয়াদ বারবার বাড়ানোর কারণে তিনি এখনও মুক্তি পাননি। তাই তার ঘটনাটি অধিকৃত ফিলিস্তিনে সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়নের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
পশ্চিম তীরে কাজ করা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদক লামা আবু হুলউ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অধিকৃত অঞ্চলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হেবরনে কর্মরত তাসনিমের প্রতিবেদক ফারাহ আবু আইয়াশের ঘটনাটি সেই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। একসময় যিনি অন্যের দুর্ভোগের খবর তুলে ধরতেন, এখন তিনিই সহকর্মীদের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সিন্ডিকেটের প্রধান নাসের আবু বকর বলেন, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হত্যা, মারধর এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ৬০ জনেরও বেশি প্রশাসনিক আটকাদেশে রয়েছেন এবং বর্তমানে ৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিক বিভিন্ন অভিযোগে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি। তিনি উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সত্য তুলে ধরা থেকে বিরত রাখা।
ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক উচ্চ কমিশনের সভাপতি আমিন শুমান বলেন, ইসরায়েলি কারাগারে সাংবাদিকদের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ফারাহ আবু আইয়াশ তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তার প্রশাসনিক আটকাদেশ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা এবং অধিকৃত ভূখণ্ড ও কারাগারের অভ্যন্তরের বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এক বছর ধরে ফারাহর পরিবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিটি আদালতের শুনানিতে তারা মুক্তির আশা করলেও প্রতিবারেই আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ফারাহর বোন সাবরিন আবু আইয়াশ জানান, এক বছর আমাদের কাছে কয়েক বছরের মতো মনে হয়েছে। প্রতিটি শুনানিতে আমরা মুক্তির আশা করি, কিন্তু প্রতিবারই আটকাদেশ বাড়ানো হয়। এতে আমরা আবারও শূন্যে ফিরে যাই।
তিনি আরও বলেন, পরিবার সব সময় আইনজীবী এবং মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের কাছ থেকে ফারাহর খোঁজের অপেক্ষায় থাকে। তার খবর পেলে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে গভীর কষ্ট অনুভব করেন তারা।
সাবরিন জানান, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট মধ্যরাতে ইসরায়েলি বাহিনী বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফারাহকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় তাকে হিজাব পরার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং অসুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও সঙ্গে নিতে দেওয়া হয়নি। পরে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে এবং চোখ বেঁধে সামরিক গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নারী বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন সাংবাদিক, যারা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গ্রেফতার হয়েছেন।
ফারাহ আবু আইয়াশের ঘটনাকে অনেক গণমাধ্যমকর্মী অধিকৃত ফিলিস্তিনে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সংকটের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তার প্রশাসনিক আটকাদেশের প্রতিটি নতুন মেয়াদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন