প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশব্যাপী সমালোচিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান র্যাবের অপকর্মের দায় বিএনপি বহন করতে পারে না। জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ করার লক্ষ্যে র্যাবকে বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী এসআরবি গঠন করা হয়েছে। নতুন বাহিনী জনগণের পাশে থেকে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, "বিরোধীদলের যদি কোন মতামত থাকে তবে তা সাদরে গ্রহণ করা হবে।" তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারি ও বিরোধী দলের মতামত ও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান উল্লেখ করেছেন, "ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।" তিনি জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদি হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব ভারতের কাছে রাখা হয়েছে। এই দুটি দাবি পূরণ হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে ভাবা সম্ভব।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ এখন কোনো দেশের চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করবে না।" দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি জানান, "ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সংকটাপন্ন একটি দেশকে সংস্কারের মাধ্যমে সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।" এ অবস্থায় বিরোধী দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। তবে, দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে বিরোধীদল সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে রোড মারচ নিয়ে ব্যস্ত। রোড মারছ রোড মারচ করে যদি তেল গ্যাসের সমস্যার সমাধান করা যেত, বিএনপির সবার আগে রোড মারছ করতো।
তিনি বলেন, "ছোট ছোট যেসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে বসে সমাধান করা যায়, সেগুলোকে বড় আকার দিয়ে সরকারকে বিব্রত করা উচিত নয়।" সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, "সংসদে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছেন। তার মধ্যে আমি পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি দেখতে পাই।" আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা যে ভাষায় কথা বলেন, রুমিন আপাও সে ভাষায় কথা বলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "বিএনপি থেকে বঞ্চিত হয়ে যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সেটা তার স্বার্থগত রূপ।"
জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তেল-গ্যাস সংকটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী সঠিক রাজনৈতিক পথ বেছে নেয়নি।" সরকার যখন ভারতবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানে রয়েছে, তখন সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো আওয়ামী লীগের সুরে সুর মিলিয়ে এনসিপিও জামায়াত যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
র্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, "র্যাবের খুন-গুমের কলঙ্ক বিএনপি সরকার টানতে পারে না।" শেখ হাসিনা র্যাবকে খুন-গুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এই কারণে সারা বাংলাদেশে র্যাব বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল।
তিনি বলেন, "সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সংসদে র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি (SRB) নামে নতুন একটি বাহিনী গঠন করেছে।" নতুন এই বাহিনীর কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এসআরবি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, "দল যাকে মনোনয়ন দেবে, দলের সব নেতাকর্মীকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে।" দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে বা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, বিএনপি নেতা শাহাজান আলী, যুবদল নেতা মনিরুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এস এম সোমেনুজ্জামান সোমেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন