প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব একটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেকেই সংক্রমিত হচ্ছেন।
রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টাকে এই পরিস্থিতির কারণে আরও কঠিন করে তুলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। একই সঙ্গে, ৭৮ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মী ‘বিশেষ’ ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিবর্তে, সাধারণ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করার সময় সংক্রমণ হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কর্পসের কঙ্গো শাখার চিকিৎসা প্রধান আবদু সেবুশিশে জানিয়েছেন, আক্রান্ত সকল স্বাস্থ্যকর্মীর সংক্রমণ ঘটেছে চিকিৎসা কেন্দ্রের বাইরের দিকে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রোগটি শুরুতে সাধারণ রোগের মতো মনে হওয়ায় অনেক সময় ইবোলা শনাক্তে দেরি হয়।
ইবোলার বান্ডিবুগিও ধরন শুরুতে ম্যালেরিয়া বা সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ প্রদর্শন করে। ফলে, রোগী এবং চিকিৎসক উভয় পক্ষই শনাক্তে বিলম্ব করে এবং এই সময়েই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে মনে করেন, সংক্রমণের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়া, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং হাসপাতালের দুর্বল নজরদারি পরিস্থিতি অমানবিক করে তুলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে যে, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে যথাযথ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে ইবোলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ অস্পষ্ট হওয়ায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৩ জন নিশ্চিত ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৪ জন মারা গেছেন এবং ১০০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন। বর্তমানে, প্রাদুর্ভাবের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ইতুরি প্রদেশে ছড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলে রয়েছে। এই এলাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগী চাপ দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক চিকিৎসাকেন্দ্র তাদের ধারণক্ষমতার থেকে বেশি রোগী নিয়ে কাজ করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতুরি অঞ্চলে সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে। পাশাপাশি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে, পরিস্থিতিটি এখনো ব্যাপকভাবে জটিল অবস্থায় রয়ে গেছে। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে নজরদারিতে মাত্র ৫৮ শতাংশ মানুষের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আনা সম্ভব হয়েছে। কয়েকদিন আগে এই হার ৭০ শতাংশেরও বেশি ছিল, কিন্তু বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপ্রবণ এই অঞ্চলে রোগীর গতিবিধি চিহ্নিতকরণ অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের প্রধান মারি রোজেলিন বেলিজেয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি পূর্ণ প্রস্তুতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি পরিস্থিতির অগ্রগতিকে ১০-এর মধ্যে তিন অথবা চার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আরও জানান, রোগী, তাদের পরিবার এবং নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সব বাধার মধ্যেও কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তুলনায় এখন বেশি রোগী সুস্থ হয়ে ফিরছেন। এর সঙ্গে সঙ্গে জনসচেতনতা কার্যক্রমও বাড়ানো হচ্ছে। জুন মাসে, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় ৯১ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা রয়েছে যে, এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন