প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম না ফেরার দেশে চলে গেছেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বেলা সাড়ে ১টার দিকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীর একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করা রেজাউল করিমের কর্মজীবন দেশের টেলিভিশন, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে অনুষ্ঠান নির্মাণ, প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল তার জীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায়। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষের মনোবল জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তার মতো শব্দসৈনিকদের কণ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সাহস জাগিয়ে তুলেছিল। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ১০৮ জন শব্দসৈনিককে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ওই গেজেটে রাজশাহী জেলার তালিকায় ‘মো. রেজাউল করিম (রবু)’ নামে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের টেলিভিশন সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান নির্মাণের ইতিহাসে রেজাউল করিমের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভিতে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অনুষ্ঠান প্রযোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে বিটিভির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি অবসর নেন। বিটিভির বহু দর্শকপ্রিয় ও কালজয়ী অনুষ্ঠানে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিটিভি থেকে অবসরের পর রেজাউল করিম রবু চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি বেসরকারি টেলিভিশনে বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান, সংস্কৃতিভিত্তিক আয়োজন, উৎসবকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন নতুন ধারার অনুষ্ঠান নির্মাণে অবদান রাখেন।
রেজাউল করিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের টেলিভিশন, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও সংস্কৃতিজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন