প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস ইউরোপে প্রথমবারের মতো প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি কঙ্গো থেকে মানবিক মিশন শেষে ফ্রান্সে ফেরা এক চিকিৎসকের শরীরে এই রোগটি শনাক্ত হয়েছে। তবে ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।
ইবোলা ভাইরাস মূলত একটি বিরল এবং মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস, যা সরাসরি মানুষের রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭৬ সালে কঙ্গো এবং সুদানে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং বিজ্ঞানীদের ধারণা, ফ্রুট ব্যাট বা শিম্পাঞ্জি থেকে এটি প্রথম মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের কারণ হচ্ছে ইবোলার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘বুন্দিবুগিও’। ২০০৭ সালে উগান্ডার বুন্দিবুগিও জেলায় প্রথম এই নতুন স্ট্রেইন শনাক্ত হয় এবং তার নামও সেই জেলার নামানুসারে রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি কঙ্গোতে আবারও ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে আফ্রিকার দেশটিতে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এবং মৃত্যু হয়েছে আড়াইশোর বেশি।
ফ্রান্সে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ইবোলার সংক্রমণ। আক্রান্ত ব্যক্তি একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি কঙ্গোয় একটি বেসরকারি সংস্থায় মানবিক সহায়তার কাজ শেষে দেশে ফেরেন।
বুধবার (২৪ জুন) ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়ার পর তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। কঙ্গো ফেরত অন্যান্য কর্মীদের জন্য ফ্রান্স ইতোমধ্যে একটি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাটির প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভাইরাসের বিস্তারের গতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার চেয়ে অনেক বেশি। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া এখনো দুর্বল এবং আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব রয়েছে।
আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোতে গত মাসে প্রথম ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ভাইরাসটি সেখানে ছড়াচ্ছিল।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি মূলত বুন্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হচ্ছে, যার কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। এটি শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায় বিধায় সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এরই মধ্যে প্রায় ৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন