প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালুর পরিবর্তে মাটি ও ইটের টুকরো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, রাতের আঁধারে এসব মালামাল দিয়ে সড়কের দুই পাশ ভরাটের চেষ্টা করা হয় এবং স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ঠিকাদারকে আগেই ওই মালামাল ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কীভাবে ওই মালামাল প্রকল্প এলাকায় এলো, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজার থেকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বরিয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটির দুই পাশে প্রশস্তকরণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানা এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর গভীর রাতে সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে মাটির সঙ্গে ইটের টুকরো মিশিয়ে ভরাটের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা বাধা দেন। একপর্যায়ে মাটিবোঝাই কয়েকটি গাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় এবং কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কের অন্য পাশের ডব্লিউএমএম (WMM) কাজের নিচের অংশে মাটির পরিমাণ বেশি থাকায় তিনি ঠিকাদারকে ওই পাশের মালামাল গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপরও ঠিকাদার দুই গাড়ি মালামাল নিয়ে এসেছিলেন। পরে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও সাংবাদিকদের দেখান।
তবে প্রকৌশলীর বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে, ঠিকাদারকে আগেই নিষেধ করা হয়ে থাকলে এরপরও কীভাবে ওই মালামাল প্রকল্প এলাকায় আনা হলো? নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মালামাল আনার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আর সড়কের দুই পাশে ইতোমধ্যে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে, কাজের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি সাংবাদিককে বালু না মাটি, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখার কথা বলেন। পরে প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রতিনিধি মুঠোফোনে সাংবাদিককে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ও কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
বরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিদুল অভিযোগ করে বলেন, সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
একই গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, কাজের সময় নিয়মিত পানি দেওয়া হয়নি। যেখানে খোয়া দেওয়ার কথা, সেখানে ভাটার শক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ভরাটের জন্য নর্দমা থেকে মাটি তুলে আনা হচ্ছে।
প্রায় ২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিষেধ করার পরও যদি ঠিকাদার নিম্নমানের মালামাল নিয়ে আসেন, তাহলে প্রকল্পের কাজের সার্বিক মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন