প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার বারহাট্টায় একটি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা কবির আহমেদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের বোয়ালজানা গ্রামের আতহারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আটপাড়া উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি সে বাড়িতে বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বোরকা পরা অবস্থায় সে বোয়ালজানা গ্রামের ওই মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। এ সময় মাদ্রাসার পুকুরপাড়ে থাকা কয়েকজন যুবকের সন্দেহ হলে তাঁরা শ্রেণিকক্ষের দিকে যান।
ওই যুবকদের দাবি, কিছুক্ষণ পর তাঁরা মাদ্রাসার মুহতামিম ও কিশোরীকে আলাদা দুটি দিক দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে একটি কনডম পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইদুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে তাঁর দাবি, ওই কিশোরী নিজ ইচ্ছায় মাদ্রাসায় এসে এ ঘটনায় জড়িয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাদ্রাসার সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মুহতামিমের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে বুধবার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাজু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভুক্তভোগীর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। এখন ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন