প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৫৮৯০ জন কৃষকের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের মূলধন ও সুদ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে ২৯৪৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ঋণ মওকুফ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একসাথে বাস্তবায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের সাথে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। কৃষক হচ্ছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি, তাই তাদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদনে উৎসাহিত করাই সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে দেশের কৃষকদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের মূলধন ও সুদ মওকুফের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সরকার ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সরকার দেশের প্রায় ১২ লাখ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক এবং বর্গাচাষী ঋণ পরিশোধ করেছে। তাদের মঞ্জুরির ফলে তারা ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাচ্ছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঋণখেলাপি হিসেবে যেসব সার্টিফিকেট মামলার আসামি ছিলেন, সেসব মামলা থেকেও অব্যাহতি পাচ্ছেন। ফলে তারা নতুন করে ব্যাংকঋণ গ্রহণ, কৃষি উপকরণ সংগ্রহ এবং উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়াও, তিনি জানান, ‘অনেক কৃষক অল্প পরিমাণ ঋণের কারণে বছরের পর বছর ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। এতে তারা সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।’ সরকারের লক্ষ্য হল, কৃষকের মাথা থেকে ঋণের বোঝা নামিয়ে এনে তাকে আবার উৎপাদনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা।
বোদা উপজেলায় এ বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৫৮৯০ জন কৃষকের মোট প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ (মূলধন ও সুদসহ) মওকুফ করা হবে। এমতাবস্থায়, উপজেলা কৃষকরা নতুনভাবে কৃষিকাজে আত্মনিয়োগের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, বোদা একটি কৃষিনির্ভর উপজেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়লে শুধু কৃষি উৎপাদনই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ঋণ মওকুফের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে প্রত্যেক কৃষককে পাঁচটি করে ফলজ, বনজ অথবা ঔষধি গাছের চারা দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী, বোদা উপজেলায় মোট ২৯৪৫০টি গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এভাবে কৃষকের ঋণের বোঝা কমানোর পাশাপাশি তাকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘সরকার কৃষিকে শুধু উৎপাদনের বিষয় হিসেবে দেখছে না; বরং এটিকে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।’ এজন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, উন্নত বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর একটি। এই বাস্তবতায় কৃষি উৎপাদন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে জাতীয় আন্দোলনের রূপদানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সম্পৃক্ত করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, 'সরকারের লক্ষ্য হলো- কোনো কৃষক যেন সামান্য ঋণের কারণে উৎপাদন থেকে পিছিয়ে না পড়ে। কৃষকের উৎপাদন অব্যাহত থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল হবে।'
তিনি বলেন, 'কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব পালন করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'
ফরহাদ হোসেন আজাদ আশাবাদী যে, ঋণ মওকুফ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামের পরিবেশ আরও সবুজ ও সমৃদ্ধ হবে।
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বানও জানিয়েছেন। যদি সরকারের প্রতিটি কৃষকবান্ধব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের কৃষি আরও শক্তিশালী হবে এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনের পথ সুগম হবে।
এছাড়া তিনি বলেছেন, কৃষককে শুধু সহায়তা নয়, মর্যাদাও দেওয়া প্রয়োজন। কারণ কৃষকের শ্রমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সরকারের এই কর্মসূচি মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বোদা উপজেলার ৫৮৯০ জন কৃষক ঋণমুক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে কৃষিকাজ শুরু করতে পারবেন। একইসাথে ২৯৪৫০টি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন