প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সার্বিয়ার আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানী বেলগ্রেডে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় স্লাভিজা স্কয়ারে আয়োজিত এই সমাবেশে স্বাধীন জনসমাগম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্কাইভ অব পাবলিক গ্যাদারিংসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ আগামী রোববারের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) পরাজিত করার উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছে।
আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা দলটির দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনা। এই নির্বাচনী জোট, যা শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং প্রচলিত রাজনীতির বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অংশ নিতে বেলগ্রেডের বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে আসেন শিক্ষার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। ‘ছাত্ররাই জিতছে’ লেখা পতাকা হাতে তাঁরা স্লোগান দেন, বাঁশি বাজান এবং শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্লাভিজা স্কয়ারে জড়ো হন। এতে স্কয়ার ও আশপাশের সড়কগুলো জনাকীর্ণ হয়ে পড়ে।
সমাবেশে উপস্থিত ৪৭ বছর বয়সী মারিয়া নেদেলকোভিচ রাডিচ বলেন, তরুণ প্রজন্ম তাঁকে এমন একটি দেশে বসবাসের আশা দেখিয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন, দেশে সত্যিকারের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্টুডেন্ট লিস্টের ২৫০ জন প্রার্থীর একজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুগোস্লাভ গাসিচ। তিনি বলেন, ১৪ বছরের অপমান, বিশৃঙ্খলা ও বিশ্বাসঘাতকতার অবসান ঘটাতে চান তাঁরা। ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতা ‘বিজয়, বিজয়’ স্লোগান দেন।
এদিকে, সার্বিয়ার সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী প্রচারণায় ভীতি প্রদর্শন, গ্রেপ্তার, হামলা এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। তাদের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।
সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। তাঁর নেতৃত্বাধীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসে। ছাত্র আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত মাসে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনকে ভুচিচের দলের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর ছাত্র আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে। ওই দুর্ঘটনার পর দুর্নীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার অভিযোগে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে দুর্ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা আগাম নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়।
রোববারের নির্বাচনে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন জোট কতটা সফল হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্টুডেন্ট লিস্ট নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটের স্বচ্ছতা এবং ফলাফল-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়ে গেছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন