প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে হলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম সিদ্দিকী (লাভলু) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে, পিস্তল দেখিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর তিনি ভাঙ্গা থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারে তিনি ১০ জনের নাম উল্লেখ করেছেন এবং ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নুরে আলম সিদ্দিকী (লাভলু) থানায় দেওয়া অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তদের একজন সামিউর রহমান মিঠু তাকে মোবাইল ফোনে নাছিরাবাদ ইউনিয়নের দরগাবাজারে ডাকেন। সেখানে পৌঁছানোর পর সামিউর রহমান মিঠু, জহুরুল মুন্সিসহ অন্যান্য আসামি তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় আসামিরা কোমরে থাকা পিস্তল বের করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাক করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘আসামিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় গুলি করে হত্যা করা হবে।' পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান। তিনি অতীতের কয়েকটি মারধর ও গুলি করার ঘটনার কথা উল্লেখ করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ভাঙ্গা দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম সিদ্দিকী লাভলু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি তার ও পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সামিউর রহমান বলেন, ‘৫০ লাখ না, ১০ টাকা চাঁদাবাজির ঘটনায় কেউ যদি আমাকে শনাক্ত করতে পারে, আমি এই দেশ ছেড়ে চলে যাব।' তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি করেছি বলে সৌদি আরবে ১২ বছর একপ্রকার নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে, দেশে আসতে পারিনি। সৌদিতে আমার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রয়েছে। তা ছেড়ে আমি কেন এসব চাঁদাবাজির মতো নিকৃষ্ট কাজ করতে যাব?’
সামিউর বলেন, ‘নুরে আলম সিদ্দিকী আমার শয্যাশায়ী বড় চাচা আবুল কালাম আজাদ সাহেবের সঙ্গে বেয়াদবি করেছেন। দরগাবাজারে তার সঙ্গে দেখা হলে তাকে আমি বলেছিলাম, আমার চাচার কাছে মাফ চাইতে।’
পিস্তল দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সামিউর বলেন, ‘আমি দুই দিন আগে বিদেশ থেকে এসেছি। আমি পিস্তল কোথায় পাব যে তাকে হুমকি দেব? মূল কথা হলো, আমাদের পরিবার আমাদের ইউনিয়নের ক্ষমতাশালী পরিবার। আমাদের সমর্থন ছাড়া ইউনিয়নে কেউ চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। মূলত এসব করে তিনি আমাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চাচা আবুল কালাম আজাদ ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নাছিরাবাদ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন