প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও গায়ক টিম কারি মারা গেছেন। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করা এই অভিনেতা ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’-তে ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অভিনয় করে ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মঙ্গলবার, লস অ্যাঞ্জেলেসের টোলুকা লেকে অবস্থিত তার বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যু ঘটে। তার দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ও বন্ধু মার্শিয়া হারউইটজ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
২০১২ সালে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে টিম কারি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
ওই স্ট্রোকের ফলে তার চলাফেরায় গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় এবং পরে তাকে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, তিনি অভিনয় ও কণ্ঠশিল্পের কাজ চালিয়ে গেছেন।
টিম কারির অভিনয়জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র নিঃসন্দেহে ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার। ১৯৭৩ সালে লন্ডনের মঞ্চে প্রথমবার তিনি এই চরিত্রে অভিনয় করেন।
পরে ১৯৭৫ সালে একই চরিত্রে ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’ সিনেমায় অভিনয় করেন। মুক্তির সময় সিনেমাটি বড় ধরনের সাফল্য পায়নি। তবে সময়ের সঙ্গে এটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং এক পর্যায়ে কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সিনেমাটির মধ্যরাতের বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী তৈরি হয়। দর্শকেরা সিনেমার সংলাপের সঙ্গে কথা বলতেন, গান ও নাচে অংশ নিতেন এবং অনেকেই চরিত্রগুলোর পোশাক পরে প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত হতেন।
এই একটি চরিত্রই টিম কারিকে পপ সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় মুখে পরিণত করেছে। তবে, তার ক্যারিয়ার ‘রকি হরর’-এর বাইরেও বিস্তৃত ছিল।
স্টিফেন কিংয়ের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯০ সালের টিভি মিনিসিরিজ ‘ইট’-এ পেনিওয়াইজ দ্য ক্লাউন চরিত্রে অভিনয় করেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন টিম কারি। তার অস্বস্তিকর ও ভয়ংকর উপস্থিতি চরিত্রটিকে দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে তোলে।
এছাড়া, ‘ক্লু’, ‘অ্যানি’, ‘লিজেন্ড’, ‘হোম অ্যালোন ২: লস্ট ইন নিউইয়র্ক’, ‘দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’, ‘মাপেট ট্রেজার আইল্যান্ড’ এবং ‘চার্লি’স অ্যাঞ্জেলস’-এর মতো সিনেমায়ও তিনি অভিনয় করেছেন।
বিশেষ করে ‘হোম অ্যালোন ২’-এ হোটেলের কনসিয়ার্জ এবং ‘লিজেন্ড’-এ ভিলেন ডার্কনেস চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
টিম কারি শুধুমাত্র চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন না; থিয়েটারেও তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার ছিল। ‘অ্যামাডিউস’, ‘মাই ফেভারিট ইয়ার’ এবং ‘মন্টি পাইথন’স স্প্যামালট’-এর মতো মঞ্চনাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি তিনবার টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করেন।
অ্যানিমেশনেও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ব্যাপক কাজ করেছেন তিনি। ‘পিটার প্যান অ্যান্ড দ্য পাইরেটস’ অ্যানিমেটেড সিরিজে ক্যাপ্টেন হুকের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ১৯৯১ সালে ডেটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জেতেন।
২০১২ সালের গুরুতর স্ট্রোক তার জীবন ও ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। স্ট্রোকের পর দীর্ঘ সময় শারীরিক ও স্পিচ থেরাপি নিতে হয় তাকে। পরবর্তীতে অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পের কাজে বেশি মনোযোগ দেন।
২০১৬ সালে ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো: লেটস ডু দ্য টাইম ওয়ার্প এগেইন’-এর টিভি সংস্করণে তিনি আবারও ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন, তবে এবার অভিনয়ের বদলে বর্ণনাকারীর ভূমিকায়। ২০২০ সালেও একটি লাইভ টেবিল রিডিংয়ে আবার ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অংশ নেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজের পরিমাণ কমে গেলেও টিম কারি পুরোপুরি অবসর নেননি। ২০২৪ সালের হরর সিনেমা ‘স্ট্রিম’-এর মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় তাকে দেখা যাবে। পাশাপাশি সংগীত নিয়েও কাজ করেছেন। নিজের ব্যান্ডের সঙ্গে গান পরিবেশন করার পাশাপাশি একাধিক অ্যালবামও প্রকাশ করেছেন তিনি।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে টিম কারি কখনো প্রচলিত নায়কোচিত চরিত্রের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখেননি। বিচিত্র, অদ্ভুতুড়ে ও খলচরিত্রে তার অভিনয় তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে, ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রটিই তাকে বিশ্বজুড়ে এমন এক তারকায় পরিণত করেছে, যাকে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন