প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছেন। তারা রাজপথে নেমে এসেছেন শিক্ষা খাতে বাজেট ছাঁটাই, বেতন ও বৃত্তির সংকট এবং গবেষণার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার প্রতিবাদে। রাজধানী বুয়েনস এইরেসে চলমান বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি ভবন এক দিনের জন্য দখল করেন। সেখানে তারা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দেন, ‘এভাবে আর চলতে পারে না’। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ সরকারি বাজেট কাটের ফলে ফ্রিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। উপযুক্ত বেতন না পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট মাইলেই সরকারি খাতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই, একাধিক মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত এবং সার্বিক ভর্তুকি কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ফলে মাসে মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াশিংটন সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাইলেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দাবি করলেও বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ জনগণের ওপর অস্বাভাবিক খরচের বোঝা চাপিয়ে এই হিসাব দেখানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন বজায় রাখতে কংগ্রেসে একটি বিল পাস হলেও প্রেসিডেনশিয়াল ভেটো এবং সরকারের অর্থ ছাড় না করার অজুহাতে তা থমকে রয়েছে। এ বিষয়ে দেশটির এক ফেডারেল আদালত সরকারকে প্রতিদিন ১ লাখ পেসো জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে শিক্ষা খাতে নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।
বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মারিয়া তেরেসা দে হেসুস জানান, মাসে প্রায় ৭০০ ডলার আয় করেও সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘শেষ চেষ্টা হিসেবে আমি এই বিক্ষোভে এসেছি। আমি একজন অধ্যাপক। শিক্ষকতা ও গবেষণা করতে ভালোবাসি। আমার এখানে থাকার কথা নয়।’
অন্যদিকে, অনেকেই সরকারের পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের অভিযোগ, মাইলেই সরকার একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে, আর তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যয় সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন