প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লাশগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ার কারণে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
কক্সবাজারের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। টানা সাত ঘণ্টার অভিযান শেষে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ১০টি লাশ উদ্ধার করা হয়, যার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শেষ হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে ছয়জনকে একই কক্ষে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। অন্যদিকে, বাকি চারজনের লাশ ওয়াশরুমে পাওয়া গেছে, যেখানে আগুন থেকে বাঁচতে তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রিসোর্ট ভবনটিতে প্রচুর কাঠ ও বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে অবস্থানরত অতিথিদের বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় মেলেনি। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে লাশগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে রিসোর্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই রিসোর্টে একই পরিবারের নয়জন অবস্থান করছিলেন, যার মধ্যে ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চিকিৎসাধীন পর্যটকদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য চারজনকে বিমানে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বোর্ডার তালিকা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। তাদের মধ্যে সকালে মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ায় দুজন নিরাপদে ছিলেন, সাতজন চিকিৎসাধীন এবং নয়জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম বোর্ডার তালিকার সঙ্গে মেলেনি।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এমই
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন