প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন ও দেশের কল্যাণে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছি। বর্তমানে আমি সম্পূর্ণরূপে একজন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমি দায়িত্ব পালন করব দলনিরপেক্ষভাবে।’
বঙ্গভবনের দরবার হলে আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কারো প্রতি কোনো রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশের, রাষ্ট্রের এবং জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
তিনি জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য থাকতে হবে।’
এসময় তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহ্বান জানান, যাতে তারা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গভবন হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সকল বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।
এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল থাকার এবং অপচয় রোধের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসাথে তিনি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও কৃতিত্ব স্মরণ করেন।
একইসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সকল রাষ্ট্রপতির কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটি পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। যখন সুযোগ পাবো, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’
তিনি ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন