প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বলিউডের অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ৬ বছরেরও বেশি সময় আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মুম্বাই হাইকোর্টের নির্দেশনার পর একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান এতে তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা, কিছু মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট এবং গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ তুলেছেন।
২০২০ সালের ৮ জুন রাতে মুম্বাইয়ের একটি ১২ তলা ভবন থেকে পড়ে মারা যান ২৮ বছর বয়সী দিশা সালিয়ান। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম দিকে পুলিশ এটিকে মদ্যপ অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়া এবং পরে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও তার পরিবার শুরু থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিল।
গত ২ সেপ্টেম্বর মুম্বাই হাইকোর্ট পূর্বের পুলিশি তদন্তের ব্যাপারে তীব্র সমালোচনা করে জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে দুই ধাপে করা তদন্তে অসংখ্য স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। আদালত মন্তব্য করে বলেন, ময়নাতদন্তের আঘাতের চিহ্ন ১২ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার সাথে মেলে না। যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে রক্তের কোনো আলামতও পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখা হলেও পুলিশ কোনো এফআইআর দায়ের করেনি। আদালত উল্লেখ করে, পুলিশের এই তদন্ত সমাধানের চেয়ে আরো বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সিবিআইয়ের কাছে দাখিল করা অভিযোগে দিশার বাবা উল্লেখ করেন, একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও অভিনেতাদের মাদক পাচার এবং শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধমূলক তথ্যের প্রমাণ দিশার হাতে এসেছিল। দিশা এই তথ্য সুশান্ত সিং রাজপুতকে জানান এবং দুজনে মিলে সংবাদ সম্মেলন করে তা ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, সেই তথ্য ফাঁস হওয়া রোধ করতে দিশাকে গণধর্ষণ ও হত্যা করে প্রমাণ লোপাট করা হয়। এর ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় সুশান্ত সিং রাজপুতকেও তার বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা সারা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
মেয়ের জন্য ৬ বছর ধরে লড়াই করে আসা সতীশ সালিয়ান আদালতের এই আদেশে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি তার একমাত্র সন্তানের জন্য সুবিচারের দাবি জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আপাতত এফআইআর-এ উল্লিখিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিবিআই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন