প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ক্যাম্পাসকে এমনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে। উপাচার্য আরও জানান, নতুন ক্যাম্পাসকে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ‘ডেভেলপিং স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর সাসটেইনেবল গ্রিন ক্যাম্পাস অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী এবং অর্থনীতি শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার।
বিশেষজ্ঞরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সবুজায়ন, আশেপাশের পর্যটনশিল্পের কারণে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন ক্যাম্পাসকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই একটি গ্রিন ক্যাম্পাসে পরিণত করা।" তিনি জানান, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ক্যাম্পাসে প্রায় পাঁচ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা প্রথম ক্যাম্পাসে পাহাড় ও প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে স্থাপনা নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
তিনি আরও জানান, নতুন ক্যাম্পাসে যাওয়ার ছয় মাস বা এক বছর আগে থেকেই পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে চান। প্রযুক্তির ব্যবহার, কার্যকর নীতিমালা, পর্যাপ্ত বাজেট এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চান, যা দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Learn, Create, Connect and Lead’ এই চারটি মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে চান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন