প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার উত্তর ইরাকে এক ঘটনার ফলে একজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার, জর্দানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল এবং একজন নিখোঁজ হন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ভূপাতিত একটি ইরানি হামলাকারী ড্রোনে থাকা অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র আজ নিশ্ক্রিয় করার সময় ওই সেনা সদস্য বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, এ ঘটনার কারণে আরো একজন সেনা আহত হয়েছেন।
সেন্টকম জানাচ্ছে, জর্দানে শুক্রবারের হামলার স্থানে তল্লাশি চালিয়ে তারা কিছু ‘মানবদেহের অবশেষ’ পেয়েছে। এই অবশেষগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
এ ঘটনার সময় টানা অষ্টম দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর উপর আবারও অবরোধ আরোপ করেছে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে অঞ্চলজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর স্বার্থের ওপর লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।
এক মাসেরও কম সময় আগে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্দানে হামলার জন্য দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) দ্রুত উত্তর দেওয়া।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এই সংঘাতে নিহত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
রবিবারও মধ্যপ্রাচ্যে হামলাপাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভেইনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কেশম দ্বীপে রাতের বেলায় হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এই পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানাচ্ছে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাটি এখনো নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো পারমাণবিক উপাদান ছিল না। অন্যদিকে, জর্দানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, দেশটির সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে, জর্দানের আকাবা বন্দর সম্ভবত লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ঘটনার পর জর্দান ইরানের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক ও প্রকাশ্য ইরানি হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানাচ্ছে, জর্দানের নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানাচ্ছে, জর্দানের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ যেন ইসরায়েলের ভূখণ্ডে না পড়ে, সেজন্য তারা একাধিক প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল আরো জানাচ্ছে, পরবর্তীতে জর্দান সীমান্তের কাছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এইলাতের আশপাশে প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন