প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ধর্মান্তকরণের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। রাজ্যে গত মে মাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পাঁশকুড়া, চন্দ্রকোনা, বারুইপুর, উলুবেড়িয়া এবং মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের মতো স্থানে এ ধরনের অভিযোগ দেখা যাচ্ছে।
ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৬০টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫২টি ঘটনায় প্রার্থনাসভা, ব্যক্তিগত বাড়ি, গির্জা এবং ধর্মীয় জমায়েতে হামলা বা বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাকি আটটি ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের স্থানীয় খ্রিস্টান পরিবারগুলো বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেখানকার বাসিন্দা শুভেন্দু বিশ্বাস জানান, "আমাদের মালদহ জেলায় আগে কখনো বাঙালি খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। আমরা আতঙ্কিত। নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতেও এখন ভয় হচ্ছে।"
সম্প্রতি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগের কারণে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা এ অভিযোগ তুললেও স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন।
মালদহের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রার্থনাসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার পশ্চিম অর্জুনদাত গ্রামে প্রার্থনাসভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা অসীম মাইতি ও হলধর পাণ্ডার বক্তব্যে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক খ্রিস্টান নারীকে মারধর এবং শুদ্ধিকরণের নামে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
বঙ্গ খ্রিস্টান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা হেরড মল্লিক অভিযোগ করেছেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং ধর্মান্তকরণের অভিযোগের বিষয়গুলো আইনি পথে মোকাবিলা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন