প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল থেকে সেখানকার দুটি টার্মিনাল থেকে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল। আজ সোমবার এলএনজিবাহি একটি নতুন কার্গো আসলে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।
আজ বিকেলের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশনের এলএনজিবাহী জাহাজ এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে ভেড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি এটি যথাসময়ে ভিড়ে, তাহলে ওই টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এটি চলতি মাসের চতুর্থ কার্গো হিসেবে গণ্য হবে। এই মাসেই আরো ৫টি জাহাজ আসার পরিকল্পনা রয়েছে। গতকাল দুটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি করে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়। এক্সিলারেট টার্মিনালে এলএনজির মজুদ কমে আসায় সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হলেও গতকাল তা বৃদ্ধি করে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। সামিটের সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে ৫৬০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে, যদিও এই টার্মিনালের সক্ষমতা ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। আগের দিন এই টার্মিনাল থেকে সক্ষমতার চেয়ে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট বেশি ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়েছিল। দুটি টার্মিনালের মোট সরবরাহ ক্ষমতা ১১শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীঘ্রই সরবরাহ সক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে।
মহেশখালী টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। গতকাল রাতে সরবরাহের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজ পরবর্তী এলএনজিবাহি কার্গো এসে পৌঁছালে মার্কিন কোম্পানির মালিকানাধীন এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের উৎপাদনও বৃদ্ধি করা হবে। তখন গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে এলএনজি আমদানির দায়িত্বপ্রাপ্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (আরপিসিজিএল) একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো কয়েকটি কার্গো আসছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর একটি, ১৯ সেপ্টেম্বর একটি কার্গো আসার নিশ্চয়তা রয়েছে। চলতি মাসের ২৩, ২৫ এবং ২৮ তারিখে আরো তিনটি কার্গো আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এই হিসাবে চলতি মাসে ৯টি কার্গো আসবে। এর মধ্যে আগামী মাসের কয়েকটি কার্গো আসার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এসব কার্গো আসলে গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
দেশে গ্যাসের চাহিদা সরকারি হিসাবে তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায় ২৫০০ থেকে ২৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড এবং যথাসময়ে এলএনজি প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। তবে গত ২২ আগস্ট থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কম ছিল। গত দুই দিন ধরে ধীরে ধীরে সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশা করছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।
গ্যাস সংকটের কারণে বেশিরভাগ গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়েছে। আবার গ্যাসচালিত শিল্প কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে শিল্প কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ দেওয়ার কথা বলছেন শিল্প মালিকেরা। আবার পিডিবির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে গ্যাসচালিত চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। চারটিতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করায় ওই চারটি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন