প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। ছবি: মীর ফরিদ
নভেম্বরে ঢাকায় বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টটি নিয়ে বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি বেশ আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে সাফের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। সেখানে কোচ ডুলি সাফ জেতার তীব্র আকাক্সক্ষা এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ২৩ বছর পর সাফ শিরোপা ঘরে তোলার এই অভিযানে, ডুলি তার পরিকল্পনা এবং দলের মানসিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলা ডুলি, খেলা ছাড়ার পর দীর্ঘ চার বছর যুক্তরাষ্ট্র দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ফিলিপাইন, গায়ানার মতো দলেরও কোচিং করেছেন।
ডুলির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিজেকে তিনি বিজয়ী মানসিকতায় গড়ে তুলেছেন। কোচ হিসেবে সেই ইতিবাচক মানসিকতাকেই বাংলাদেশ দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ডুলি বলেন, “প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ই আমার একমাত্র চাওয়া। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা, যা আমাকে খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন তারাও একই কথা ভাবে।”
দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ রয়েছে, এমনটি উল্লেখ করে কোচ জানান, প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব গুণ নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। “আমরা এমন খেলা উপহার দিতে চাই যেন দর্শকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না যায়। তারা যেন মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
ডুলি আরো জানান, “তারা যেন বলে, দল যে খেলাটা খেলে তা পছন্দ হয়েছে এবং আমি চাই দর্শকরা যেন জয় নিয়ে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।”
বাংলাদেশ আট বছর পর ঘরের মাঠে সাফ খেলতে যাচ্ছে। তাই শিরোপা জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ। তিনি বলেন, “টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য? আপনাদের কী মনে হয়? অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবলারদেরও আমি একটাই বার্তা দিব—মাঠে নামো, নিজের যা আছে সবটুকু উজাড় করে দাও। এরপর যদি অন্য দল ভালো খেলে ফেলে বা জিতে যায়, সেটা হবে আমাদের দুর্ভাগ্য। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ, আমরা ভুল করলে কঠোর হবেন না। কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করা ফুটবলাররাও ভুল করে।”
বাংলাদেশ একবারই সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল; ২০০৩ সালে দেশের মাটিতে। ২৩ বছর ধরে ওই ট্রফি আর পাওয়া যায়নি, সেই খরা এবার কাটাতে চান ডুলি। এজন্য তিনি দর্শকদের মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডুলির এই অদম্য মানসিকতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত সাফল্য এনে দিতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দিবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন