প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর চিফ অব স্টাফসহ পুলিশের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের কারণ হলো প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনে অবৈধভাবে আড়ি পাতার অভিযোগ। এ তথ্য দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর জন্য এটি একটি নতুন ধাক্কা, যিনি বিভিন্ন দিক থেকে চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
পুলিশ অভিযুক্তদের পুরো নাম প্রকাশ করেনি, তবে তাদের নামের আদ্যক্ষর জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন প্রেসিডেন্টের সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া চিফ অব স্টাফ লিস্তিয়ো সিগিত প্রাবোও। তিনি এখনও পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত আছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত তারা অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ফোনে আড়ি পেতেছেন। উল্লেখ্য, লিস্তিয়ো সিগিত প্রাবোওর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই। তিনি গত মাসে প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে জাতীয় পুলিশের প্রধান ছিলেন।
জাতীয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান আসেপ সাফরুদ্দিন মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযুক্তরা আইন না মেনে প্রেসিডেন্ট, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সংগঠনের নেতা, সাংবাদিক, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের ফোন নম্বরে আড়ি পেতেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই তদন্ত প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর জন্য নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষের কারণে তার জনসমর্থন কমছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে রেকর্ডসংখ্যক শেয়ার বিক্রি, মুদ্রার দরপতন এবং শেয়ারবাজারের সূচক নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা এমএসসিআইয়ের সতর্কবার্তার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতেও তাঁকে চাপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সরকার এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। রাষ্ট্রদ্রোহের কোনো সম্পর্কের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনমন্ত্রী ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্রা জানান, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
বুধবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স যোগাযোগ করেছিল, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন কর্মকর্তার নামের আদ্যক্ষর হলো এলএসপি, এএইচএন ও ইএইচ। তিনজনই পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়াও, আরো কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাকি দুই অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন জাতীয় পুলিশের আইন বিভাগের প্রধান আহরি সোনতা নাসুতিওন এবং জাতীয় পুলিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একো হাদি সান্তোসো।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান আসেপ সাফরুদ্দিন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি আইন ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া ফোন বা অন্য যোগাযোগমাধ্যমে আড়ি পাতা, অনুমতি ছাড়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক তথ্য মুছে ফেলা। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যথাক্রমে ১০, ছয় ও আট বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আসেপ বলেন, তদন্তকারীদের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা পুলিশের কোনো প্রতিবেদন ছাড়াই অভিযুক্তরা ফোনে আড়ি পাতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আইন প্রয়োগের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গেও এসব কাজের সম্পর্ক ছিল না। তিনি আরো জানান, কয়েকটি ফোন নম্বর আইনসম্মতভাবে আড়ি পাতার ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছিল। তবে গত মাসে অভিযুক্তরা আড়ি পাতার সব তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। তারা এ ঘটনার কোনো প্রমাণ বা চিহ্ন না থাকার উদ্দেশ্যে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
আইনমন্ত্রী ইউস্রিল জানান, ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাবোওর দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ফোনে আড়ি পাতার কাজ শুরু হয়। চলতি বছর পর্যন্ত তা চলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন