প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাহাড়, মেঘ, ঝরনা, হ্রদ এবং বৈচিত্র্যময় জাতি-গোষ্ঠীর জীবনাচার ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বছরজুড়ে বান্দরবানে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ছুটে আসেন। কেওক্রাডং, তাজিংডং, সাকাহাফং, বগালেক, রাইক্ষ্যংপুকুর, নাফাখুম, দেবতাকুম, শৈলপ্রপাত, মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরিসহ অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র এখানে রয়েছে।
জেলায় পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, পর্যটক গাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। পাহাড়ের লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তবে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বান্দরবানের পর্যটন খাতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, দিবসের জন্য জেলা প্রশাসন ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কী ধরনের কর্মসূচি রয়েছে, তা সম্পর্কে তারা অবগত নন। তাদের দাবি, প্রতিবছর শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হলেও পর্যটনশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় না। ফলে দিবসের আয়োজন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসময় সভায় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, ট্যুর অপারেটর, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ না করায় জেলা পরিষদ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে তারা জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনকে সবসময় সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। অন্যান্য বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠিপত্র দিয়ে জানানো হলেও এবার তাও করা হয়নি।"
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপির সঙ্গে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি পর্যটকদের জন্য ৪০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে সাম্প্রতিক বন্যার পর পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন হোটেলে শ্রেণি ও মানভেদে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড়ও চলছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির আলোকে ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে স্থানীয় পর্যটন খাত ন্যস্ত করা হয়।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, স্থানীয় পর্যটন খাত জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও বাস্তবে তার নিয়ন্ত্রণ কতটা পরিষদের হাতে এসেছে, তা নিয়ে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ব পর্যটন দিবস শুধুমাত্র শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যসেবা, প্রশিক্ষিত গাইড, পরিকল্পিত প্রচারণা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
জেলা পরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সীমাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত অবকাঠামো, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি, দক্ষ জনবলের সংকট এবং নীতিগত সমন্বয়ের অভাব বড় বাধা। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত রাজস্ব ও নিজস্ব ফান্ডের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
জেলা পরিষদ ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ রয়েছে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, নীলগিরি ও চিম্বুকসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও আয়ের উৎসগুলো জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে। এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে বছরে শত কোটি টাকা আয় হলেও তার ছিটেফোঁটাও পায় না পার্বত্য জেলা পরিষদ।
এতে পরিষদ পর্যটন ব্যবস্থাপনায় নানান প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে সরকার অনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় পর্যটন খাতকে ন্যস্ত (হস্তান্তর) করা হলেও তা এখনো শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
জেলা পরিষদ সদস্য লুসাই মং মারমা বলেন, "পর্যটন খাত জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত করা হলেও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর পরও পর্যটন শিল্পের প্রসারে বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করবে পরিষদ।"
বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রস্তুতি সভা প্রসঙ্গে লুসাই মং বলেন, "গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ না করায় তিনি নিজেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন