প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার মনপুরায় অধ্যক্ষের বাড়িতে ব্যক্তিগত কাজ করতে রাজি না হওয়ায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মচারীকে (এমএলএস) চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চাকরি ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. সেলিম।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে সেলিম এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি একই সঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০২ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি অফিস সহায়ক (এমএলএস) পদে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন।
তবে, সেলিম অভিযোগ করেন যে, কলেজের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ব্যক্তিগত গৃহস্থালি কাজ করাতেন। সেলিমের দাবি, অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কলেজের প্রভাষকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অসদাচরণ করার নির্দেশও দেওয়া হতো তাকে। এসব অন্যায় ও ব্যক্তিগত কাজে অসম্মতি জানালে অধ্যক্ষ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।
এই পরিস্থিতির পর কলেজের তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি ও তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহাজান মিয়া এবং অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনের যোগসাজশে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে অভিযোগ করেন সেলিম।
পরে তার পদে কলেজ কমিটির সভাপতির ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। সেলিম জানান, চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানিয়ে তিনি বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তাকে কলেজে স্বপদে বেতন-ভাতাসহ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।
তবে, ওই নির্দেশ অমান্য করে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেন বলে অভিযোগ করেন সেলিম। ওই চিঠিতে তাকে নৈশপ্রহরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। সেলিম দাবি করেন, তিনি ২০০২ সালের ১ সেপ্টেম্বর এমএলএস পদে কলেজে যোগ দেন এবং ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর ওই পদে এমপিওভুক্ত হন। ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি এমএলএস পদেই চাকরি করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। কখনো নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তদন্ত করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান সেলিম। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার পর ২০২৪ সালে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করে ভোলার নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন মো. মহিউদ্দিন। বর্তমানে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক মো. মাহবুবুল আলম শাহীন।
এ বিষয়ে কলেজটির তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম শাহাজাহান মিয়ার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আত্মগোপনে থাকায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমানে ভোলা নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, নৈশপ্রহরী সেলিম দায়িত্ব পালন না করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি এমএলএস পদে নয়, নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ার কারণেই এমএলএস সেলিমকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সেলিমকে বাদ দিয়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ ওই পদে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনকে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। বর্তমানে ওই পদটি খালি নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় সেলিম ওই পদে পুনর্বহাল হতে পারবেন কি না, তা ভুক্তভোগীই বলতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন