প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ঠিক কয়েক দিন আগে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে পূর্ণাঙ্গ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। প্রায় এক হাজার সামরিক চেকপোস্ট বন্ধ করে রামাল্লায় যাতায়াতের সমস্ত পথ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হেবরনে একটি সামরিক চেকপোস্টে গুলির হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও সমষ্টিগত শাস্তি নেমে আসতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
হেবরনে হামলার পর ইসরাইলের প্রথম পদক্ষেপ ছিল শহরের তিনতলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া। ইসরাইলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটি ভেঙে ফেলে। সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
এছাড়া, হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এই অভিযানের সময় তাদের কয়েকজন স্বজনকে আটক করা হয়েছে।
ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেবরনে ‘জেনিন মডেল’ প্রয়োগ করা হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জেনিনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাকে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা হেবরনের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব পদক্ষেপকে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শুক্রবার, হেবরনের কাছে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির। তিনি বলেন, ‘হামলায় জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করতে এবং তাদের কাছে পৌঁছাতে ইসরাইলি বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান হবে নজিরবিহীন। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরাইল এমন অভিযান আর চালায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির পশ্চিম তীরের সড়কগুলোতে ফিলিস্তিনিদের চলাচল সীমিত করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতার চেয়ে ইসরাইলিদের জীবন ‘দশ লাখ গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।
ফিলিস্তিনিদের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি আরোপকে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হয়। তবে হেবরনের হামলার পর এবার এর মাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফিলিস্তিনিরা।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন