প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে অভিবাসন এবং ভিসার ক্ষেত্রে কঠোর নীতির অনুসরণ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিভিন্ন সময়ে দেওয়া অস্থায়ী ভিসাগুলোর যাচাই করছে গোপনে।
অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ভিসাধারীরা কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন কি না, এটাই যাচাইয়ের মূল বিষয়। জানা গেছে, যাচাইয়ের তালিকায় থাকা অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। যদিও স্টেট ডিপার্টমেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে জানতে চেয়েছিল, এই যাচাইয়ের আওতায় ভারতীয় নাগরিকেরা পড়তে পারেন কি না।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাননি।
তিনি জানান, ‘মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুবিধা।’ তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন ভিসা ব্যবস্থার জালিয়াতি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
জানা গেছে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির যৌথভাবে এমন সব মামলা বা ঘটনা খুঁজছে, যেখানে কোনো ব্যক্তি অস্থায়ী ভিসা নিয়ে প্রবেশ করার পর স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করেছেন; তা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেই হোক বা স্থায়ী মর্যাদার অন্য কোনো উপায়ের মাধ্যমে।
পুরো যাচাই প্রক্রিয়াটি একটি মাত্র প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে চলছে- ওই ব্যক্তি শুরু থেকেই নিজের উদ্দেশ্যের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কিনা?
পিগট উল্লেখ করেন, ভিসাধারী ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে যাবেন, এই প্রত্যাশার ভিত্তিতেই অস্থায়ী ভিসা প্রদান করা হয়।
এনডিটিভিকে পিগট বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কনস্যুলার কর্মকর্তার কাছে তাদের আসল উদ্দেশ্যের বিষয়ে মিথ্যা বলেন, তবে সেটি জালিয়াতি হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর ফলে তাদের ভিসা বাতিল হতে পারে।’ তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে আসার পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হয় না।
তদন্তকারীরা মূলত সময় এবং সততার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তারা পরীক্ষা করে দেখছেন যে, ওই ব্যক্তি ভিসা সাক্ষাৎকারের আগেই স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না এবং পরবর্তীতে আবেদনপত্র যাচাইকারী কর্মকর্তার কাছে সেই তথ্যটি গোপন করেছিলেন কি না।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট নজরদারির তালিকায় থাকা ভারতীয়দের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি এবং ভবিষ্যতে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য আলাদা করে চিহ্নিতও করেনি। তবে তিনি কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেননি।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই যাচাই এখনও চলছে এবং কাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যাগুলো পরিবর্তিত হতে পারে। যাচাই প্রক্রিয়াটি একবারে না হয়ে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে মার্কিন ভিসা ধারণকারী যে কারও জন্য মূল বার্তাটি খুব স্পষ্ট : একটি ভিসা মানেই অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার নিশ্চয়তা নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট যদি মনে করে যে কোনো ব্যক্তি নিজের উদ্দেশ্যের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তবে তিনি ইতিমধ্যে যত দিনই দেশটিতে অবস্থান করে থাকুন না কেন, তার ভিসা বাতিল করা হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন