প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধের জন্য ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ইয়েমেনের বৈধশাসক হিসেবে তাদের স্বীকৃতির দাবি তুলেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যেখানে বিষয়টির সঙ্গে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হুতিরা দাবি করেছে যে, এই অর্থ সৌদি-নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর সৌদি আরব সংঘাত বন্ধের জন্য আলোচনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে হুতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
হুতিদের এই দাবি রিয়াদের জন্য মেনে নেওয়া বেশ কঠিন। বিশেষ করে, হুতিদের ইয়েমেনের বৈধশাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ হবে এমন একটি গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া, যাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব বছরের পর বছর ধরে লড়াই করে আসছে। এটি সৌদি আরব সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে দুর্বল করে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইয়েমনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পেক্ষাপটে এই আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের শাসনবার পরিচালনার মূল কেন্দ্র এডেনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও অবকাঠামোর ওপর হামলা দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে অনিচ্ছুক বলে জানা গেছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়েমেনে অতিরিক্ত সৌদি সেনা পাঠানো হলে এতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং এটি সৌদি আরবকে নিজ দেশে সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে।
সৌদি আরব হুতিবিরোধী অভিযানে আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত হুতি-বিরোধী অভিযান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ইয়েমেনের ভেতরে অভিযানে অংশ নেয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে।
ইয়েমেন সংঘাতের সুদূরপ্রসারী আঞ্চলিক প্রভাব রয়েছে। কারণ ইরানের সঙ্গে হুতিদের সম্পর্ক এবং সৌদি অবকাঠামো ও নৌ-চলাচল রুটের প্রতি হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা। গত অক্টোবরে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তাসহ ইরানের সমর্থন হুতি গোষ্ঠীকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আরও উন্নত ও জটিল আক্রমণ চালাতে সাহায্য করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, হুতিদের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেয়েও বেশি কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে হুতিদের রাজনৈতিক মর্যাদা, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের ভবিষ্যৎ এবং সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে আসবে।
তবে চুক্তি নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। যেসব দাবির কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো আলোচনার অংশমাত্র; ফলে এগুলো সৌদি আরব মেনে নেবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
সূত্র: দ্য খামা প্রেস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন