প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য আতঙ্কের নাম। তাঁর গতি, ক্ষিপ্রতা এবং দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের কারণে নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করতেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে বর্তমানে সেই পরিচিত ভিনিসিয়ুস যেন হারিয়ে যাচ্ছেন। গোলের অভাব, অ্যাসিস্টের অভাব; এমনকি ড্রিবলিংয়ে সাফল্যও পাচ্ছেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ক্লাবগুলোর আগ্রহ নতুন করে দলবদলের আলোচনা উস্কে দিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ তিন ম্যাচে ভিনিসিয়ুস একবারও সফল ড্রিবলিং করতে পারেননি। রোমা, আরবি লাইপজিগ এবং এইকে এথেন্সের বিপক্ষে খেলেও তিনি প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়কে কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এইকে এথেন্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ৮১ মিনিট মাঠে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র একবার ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও ব্যর্থ হয়েছে।
ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি গোল এবং অ্যাসিস্টের হিসাবেও তাঁর সময় ভালো যাচ্ছে না। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের তথ্য অনুযায়ী, টানা ছয় ম্যাচে ভিনিসিয়ুস কোনো গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। ২০২২-২৩ মৌসুমের পর এমন দীর্ঘ খরা তিনি আগে দেখেননি।
তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তাঁর ছন্দপতনের বিষয়টি স্পষ্ট করে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৩.২৭টি সফল ড্রিবলিং করতেন ভিনিসিয়ুস। চলতি মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১.৬৩-এ। শুধু সফল ড্রিবলিংয়ের সংখ্যা নয়, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও কমে গেছে। এএসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি ২১.৬ মিনিটে একবার ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করছেন তিনি। ২০২২-২৩ মৌসুমে এই ব্যবধান ছিল মাত্র ৯.৫ মিনিট।
ভিনিসিয়ুসের এই পারফরম্যান্সের মধ্যেই সৌদি আরবের আগ্রহ আবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল আহলির নাম সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভিনিসিয়ুস সৌদি আরবের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তাঁর এজেন্টের সঙ্গে সৌদি প্রতিনিধিদের যোগাযোগের খবরও সামনে এসেছে। তবে সেসব আলোচনা চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে, এমন নিশ্চিত তথ্য নেই।
রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসও ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করছে। ক্লাবটির হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকাকেও একসময় ছেড়ে দিয়েছিল মাদ্রিদ। শুধু রোনালদোই নয়, সময় ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিদায় দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটির। ফলে ভিনিসিয়ুস যত বড় তারকাই হোন না কেন, ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পারফরম্যান্স এবং আর্থিক সমীকরণ তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ফেরাতে না পারলে এবং সৌদি আরবের ক্লাবগুলো বড় প্রস্তাব নিয়ে এলে তাঁর মাদ্রিদ অধ্যায়ও শেষ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আল হিলালের প্রধান নির্বাহী এস্তেভে কালজাদাও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, ভিনিসিয়ুসকে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করবে সৌদি আরব। এর আগে তাঁকে ঘিরে এক বিলিয়ন ইউরোর সম্ভাব্য চুক্তির খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সৌদি প্রো লিগের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছিলেন, খেলোয়াড় কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো, লিগ কর্তৃপক্ষ সরাসরি সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত নয়।
সব মিলিয়ে, মাঠের পারফরম্যান্সে ভিনিসিয়ুসের বর্তমান সময়টা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হয়ে উঠছে। যে ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল তাঁকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানেই এখন সবচেয়ে বড় ঘাটতি। এই ছন্দপতন কাটিয়ে তিনি আবার নিজের পুরোনো রূপে ফিরতে পারেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে সৌদি আরবের আগ্রহ বাস্তবে দলবদলের প্রস্তাবে রূপ নেয় কি না, সেটিও নজরে রাখার মতো বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন