প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সড়ক পাকা করণের কাজ শুরু হওয়ার অনেক পরে দরপত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বিত হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ মান বজায় না রেখে দায়সারা কাজ করা হলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জিআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় শোলমারি মুচিগাড়ি ও সিংহাটি নাড়াপোতা মাঠ এলাকায় প্রায় এক কোটি ৯৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শোলমারি মুচিগাড়ি এলাকায় এক হাজার ৩০০ মিটার এবং সিংহাটি নাড়াপোতা মাঠ এলাকায় ৭৫০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইএমএস সলিউশনের স্বত্বাধীকারী জান্নাতুল ফেরদৌস।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে সিংহাটি নাড়াপোতা মাঠ এলাকার অংশে ডব্লিউবিএম এর কাজ চলছে। ডব্লিউবিএম কাজে উন্নতমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের পরিবর্তে আধলা, কাদা-মাটি মাখানো এবং পুরনো ঘরের দেয়াল ভাঙ্গা সিমেন্টযুক্ত জোড়া লাগা নিম্নমানের ইটের খোয়াও ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সাব-বেস স্তরে কাঁদাযুক্ত বালু ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার প্রাথমিক কাজের সময়ও নিম্নমানের বালু ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের পর কিছু বালু সরিয়ে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে নিম্নমানের বালু ও ইট দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয় স্তরের কাজ শুরু হলে এবারও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় রোকনুজ্জামান নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই মাঠে এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষের জমি রয়েছে। মাঠে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার নির্মাণকাজ চলায় কৃষিপণ্য পরিবহনসহ চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তার ওপর নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলে রাস্তা টেকসই হবে না। এতে তাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।’
আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও কাজের মান নিয়ে এখন নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সড়কটি যেন দ্রুত নষ্ট না হয়, সেজন্য নির্মাণকাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার শিমুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘যদি কোনো ধরনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী থাকে, তাহলে সেগুলো ঠিকাদারকে অপসারণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কোনো অনিয়ম আমি মানব না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন