প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত আট মাসে পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। জনমনে এই বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, তবে সচেতন মহলের মতামত হলো, এসব মৃত্যুরোধে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে, জেলায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
নেত্রকোনা জেলা মূলত পাহাড়, নদী, নালা, হাওর, বাঁওড়, খাল ও বিল দ্বারা পরিবেষ্টিত। বাড়ির চারপাশে জলাশয় থাকার কারণে অসাবধানতাবশত প্রতিনিয়তই ঘটছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তবুও, সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
গত আট মাসে মারা যাওয়া ৮২ জনের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই শিশু। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃত শিশুদের বেশির ভাগের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
জানা যায়, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। পাশাপাশি প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত সন্তানকে সাঁতার শেখানো। সাধারণত ছয়-সাত বছর বয়সের পর অভিভাবকেরা সন্তানকে সাঁতার শেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পানিতে ডুবে যে শিশুরা মারা যাচ্ছে, তাদের বড় অংশই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী।
নেত্রকোনার ১০ উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামের বাড়ির উঠান পার হলেই পুকুর, ডোবা, নদী, নালা, খাল, বিল কিংবা হাওর চোখে পড়ে। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে যখন দেখা যায়, বাবা কৃষিকাজে এবং মা রান্নাবান্না বা গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত। মাঝে মাঝে এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে শিশুদের সাঁতার শেখানোর প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে মাঠে তাদের কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল কাগজে-কলমে সাঁতার শেখানোর নাম করে প্রকল্পের অর্থ অপচয় বা তছরুপ করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আট মাসে জেলায় পানিতে ডুবে ৮২ জন মারা গেছে। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে অর্থাৎ জুন মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। ১০টি উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
পুলিশের দেওয়া মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়- ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে শূন্য, মার্চে ৪, এপ্রিলে ৬, মে-তে ১৫, জুনে ২৭, জুলাইয়ে ৯ এবং আগস্টে ১৮ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে।
নেত্রকোনা জনউদ্যোগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, নেত্রকোনা জেলা নদী-নালা ও হাওরবেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে চারপাশে পানি থৈ থৈ করে। গ্রামে শিশুদের দেখভালের জন্য আলাদা কোনো সদস্য থাকেন না। ফলে মাকেই সন্তান সামলানোর পাশাপাশি সংসারের সব কাজ করতে হয়। বাবারা জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন, আর মায়েরা গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে শিশুরা খেলাধুলা করতে গিয়ে অলক্ষে পানিতে পড়ে যায়। এটি রোধ করতে গ্রামে বেশি বেশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং পুকুর-ডোবার চারপাশে বাঁশের নেট বা খুঁটি দিয়ে ঘেরা দেওয়া প্রয়োজন।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ইনকিলাবকে জানান, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে প্রতিটি উপজেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জেলা পর্যায়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভা ডেকে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের সাঁতার শেখাতে স্থানীয় পুকুরগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন