প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাবেয়া খাতুনের (৩৭) শেষ বিদায় সম্পন্ন হলো দুই মেয়ের চোখের জল এবং স্বজনদের কান্নায়। শনিবার ট্রেনে উঠতে গিয়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানোর পর রাবেয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রোববার সকালে খিলক্ষেত টানপাড়ায়, রাজধানীতে।
নিকুঞ্জ-টানপাড়া এবং আশপাশের এলাকা থেকে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে জানাজায়। ঈদগাহ ময়দানের পরিবেশ স্বজনদের আহাজারি এবং কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে। রাবেয়া খিলক্ষেত এলাকার ইকবাল হোসেনের কন্যা ছিলেন। তাঁর স্বামী মনিরুল ইসলাম খিলক্ষেত টানপাড়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তাঁদের দুটি মেয়ে রয়েছে। মায়ের নিথর দেহ সামনে দেখে দুই মেয়ের কান্না উপস্থিত অনেকের আবেগকে স্পর্শ করে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রাবেয়া রাজশাহী থেকে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্টেশন সূত্র জানায়, ট্রেনটি নির্ধারিত বিরতি শেষে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছিলেন রাবেয়া। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর পা পিছলে প্ল্যাটফর্ম থেকে রেললাইনে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের চাকায় তাঁর দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান তিনি।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাবেয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
এক দিনের ব্যবধানেই যে নারী স্বাভাবিক ছন্দে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, তাঁকেই নিথর হয়ে ফিরতে হলো আপনজনের কাছে। তিনি রেখে গেলেন দুটি ছোট মেয়েকে, স্বামীকে এবং অসংখ্য স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি জাহিদ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান সরকার সৈকতসহ মরহুমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জানাজা শেষে রাবেয়া খাতুনকে যখন পারিবারিক কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন দুই মেয়ের কান্না এবং স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একটি ট্রেনযাত্রা শেষ হওয়ার কথা ছিল গন্তব্যে পৌঁছে। অথচ সেই যাত্রাই রাবেয়ার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে গেল। পেছনে রইল দুটি মেয়ে, স্বজনদের অশ্রু এবং একটি পরিবারের অপূরণীয় শূন্যতা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন