প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া দল এসেছে অনেক তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই। মাঠে গড়ানোর পর স্টার্ক এবং কামিন্সদের অভাব অজি দলের কাছে প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে। মিরপুরে টাইগারদের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি। এই সিরিজে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টাইগাররা জিতে নিয়েছে ঘরের মাঠে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অজিদের ৪ উইকেটে হারিয়ে টাইগাররা জয়সূচক ম্যাচটি নিজেদের করে নিয়েছে।
ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানসহ সেরা দশে থাকা প্রায় প্রতিটি দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে অপেক্ষা ছিল। ২০০৫ সালে প্রথমবার তারা ত্রিদেশীয় সিরিজে অজি দলের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে জয় লাভ করেছিল। এরপর ২০১৭ সালে টেস্টে জয় এবং ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয় করেছিল বাংলাদেশ।
তবে, মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয় পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল সবাই। সেই অপেক্ষা এবার শেষ হলো, ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ টানা দুই ম্যাচ জিতে নিজেদের করে নিয়েছে মিরাজ বাহিনী।
১১ জুন, বৃহস্পতিবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে অজিরা ৪২ ওভারে ১৮৭ রান সংগ্রহ করেছে। এরপর অঝোরে বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচের ৯ ওভার কাটা পড়ে। বৃষ্টি আইনের মাধ্যমে ৪১ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ জয় তুলে নিয়েছে বল ও উইকেট হাতে রেখে।
বাংলাদেশ প্রথম ওভারে উইকেট হারিয়েছে। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে তানজিদ তামিম বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন। এরপর শান্তর সহযোগিতায় ওপেনার সৌম্য সরকার দলের হাল ধরে রেখেছিলেন। দুই ব্যাটার মিলে ৮৬ রানের একটি জুটি গড়েন। কিন্তু সৌম্য ৪২ রানে রিভার্স সুইপ খেলে আউট হয়ে যান।
৮৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর বিপদ আরও বাড়াতে থাকেন শান্ত। ৯৮ রানে পৌঁছানোর সময় তিনি ৪২ রানে আউট হয়ে ফিরে যান। তবে আউট হওয়ার আগে তিনি নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন, যা বাংলাদেশে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।
মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান খারাপ। এক যুগের ক্যারিয়ারে কোনো ফিফটি করতে পারেননি। আজকের ম্যাচেও তার বিধ্বস্ত হওয়ার একই দশা দেখা গেছে। দারুণ খেলা লিটন ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সারে বিদায় নেন ২১ রান করে।
ছয়ে নামা মোসাদ্দেক আত্মবিশ্বাসী শুরু করেছিলেন। প্রথম বলেই ডাউন দ্য ট্র্যাক থেকে ব্যাটিং করেছেন। তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দুর্দান্ত খেলা করছিলেন। কিন্তু উচ্চবিলাসী শট খেলে বিদায় নেন মোসাদ্দেক।
বাংলাদেশ ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ব্যাকফুটে চলে যায়। তবে মিরাজ ও হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ৩৬ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
এর আগে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্যাট করে কোনো রান না করেই লজ্জার রেকর্ড গড়েছে। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই তারা তিন উইকেট হারায়। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির গড়ে জশ ইংলিসের দল।
ইনিংসের শুরুতে তাসকিন আহমেদ চাপ তৈরি করেন। তিনি টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন। এরপর কুপার কনোলিকে দ্বিতীয় ওভারে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশও আউট হয়ে যান। পরে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।
১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরে সফরকারীরা চাপে পড়ে। এর পর সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে উল্লম্বিত করেন জেভিয়ার বার্টলেট এবং মার্নাস লাবুশেন। কিন্তু ৪১তম ওভারে আবার ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর তারা ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে।
পরবর্তীতে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতির মাধ্যমে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয় এবং বাংলাদেশকে ১৯২ রান করতে হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন