প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আকাশ আলোকিত হয়ে উঠেছে নানা আচার-অনুষ্ঠান ও বর্ণিল ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী নন্দনকানন বৌদ্ধবিহার এবং এর আশপাশের এলাকায় জমকালো ফানুস উৎসব শুরু হয়। হাজারো মানুষের পদচারণায় পুরো বিহার প্রাঙ্গণ সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।
দিনভর বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের পর সন্ধ্যার পর থেকে আকাশে শত শত ফানুস ওড়ানো হতে থাকে। এ সময় ঢোলের তালে তরুণ-তরুণীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। উৎসবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ এবং বিদেশি পর্যটকরাও অংশ নেন। উৎসবের আনন্দকে রঙিন করে তুলতে অনেকেই পরেছিলেন একই রঙের পোশাক ও টি-শার্ট।
সাধারণ ফানুসের পাশাপাশি বালিশ, লম্বাকৃতি ও গোলাকার নানা নকশার ফানুস তৈরি করেন ধর্মীয় ও তরুণ সংগঠনের সদস্যরা। এসব ফানুসের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয় গৌতম বুদ্ধের অহিংস বাণী, ছবি এবং মানবকল্যাণের বার্তা। ফানুস ওড়ানোর পাশাপাশি আতশবাজির ঝলকানিতে রাতের আকাশ বর্ণিল হয়ে ওঠে।
আয়োজকেরা জানান, এ আয়োজনের প্রস্তুতি চলে কয়েক মাস ধরে। বাঁশের কাঠামো তৈরি, রঙিন কাগজ লাগানো ও মোম প্রস্তুতসহ প্রতিটি কাজে তরুণরা স্বেচ্ছায় শ্রম দেন। শুধু বিনোদন নয়, ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে সব জীবের কল্যাণ কামনা এবং সমাজে শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
উৎসব দেখতে আসা দর্শনার্থী সুমন বড়ুয়া জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই নন্দনকাননের এ ফানুস উৎসব দেখে আসছেন। রাতের আকাশে একসঙ্গে এত ফানুস ওড়ার দৃশ্য মনে অনন্য ভালো লাগা তৈরি করে। এদিকে উৎসব ঘিরে বৌদ্ধবিহার ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নিয়োজিত ছিল ফায়ার সার্ভিসের টিম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন