প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং বগুড়ার নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর এবং বগুড়া জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এ সময় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়েছে পাউবো। তারা জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। রংপুর, সিলেট এবং ঢাকা বিভাগে মধ্যম থেকে ভারী বিড়াল হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং অরুণাচল প্রদেশেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় এবং ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী তিন দিনেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পাউবোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পদ্মা অববাহিকার নদ-নদীর পানিও বাড়ছে এবং তা আগামী পাঁচ দিন ধরে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এগুলোও বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সিলেটে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা এবং কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর আগামী তিন দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় সিলেট এবং সুনামগঞ্জে নদীগুলো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, যা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করার আশঙ্কা বৃদ্ধি করে।
রংপুর এবং ময়মনসিংহেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রংপুর বিভাগের ধরলা এবং দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে গেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা, দুধকুমার এবং তিস্তা অববাহিকার নদীগুলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করবার সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সামগ্রিকভাবে দেখা দিতে পারে।
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুগাই এবং কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী তিন দিনে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার নদীগুলো সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রামের নদীগুলোতেও পানি বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি ইতিমধ্যেই বেড়ে গেছে। আগামী তিন দিনে গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা এবং মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানাচ্ছে বন্যা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন