প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজিরবিহীন ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করেছেন।
অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর জানিয়েছেন, দণ্ডিত এক খুনি মৃত্যুদণ্ডের ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে যান এবং বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এএফপি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা চলতি মাসের মধ্যে পদ ছাড়বেন বলে শনিবার গভর্নর বিল লি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।
বুধবার ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের শরীরে পেন্টোবার্বিটাল নামের একটি ওষুধের দুই দফা প্রাণঘাতী মাত্রা প্রয়োগ করা হয়। এই ওষুধ স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম দমন করে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পর প্রায় এক ঘণ্টা তারা পাইকের নাক ডাকার শব্দ শুনতে পান। পরবর্তীতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষের দর্শক এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার সময়ও তিনি জীবিত ছিলেন।
পরে পাইককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা জানান, তিনি ‘অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায়’ রয়েছেন এবং অচেতন। তিনি ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে পেন্টোবার্বিটাল অপসারণের চেষ্টা করছেন।
গভর্নর লি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে টেনেসির জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখার জন্য’ তিনি স্ট্রাডার প্রতি কৃতজ্ঞ।
একই বিবৃতিতে স্ট্রাডা বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি, কারা বিভাগ নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেছে।’
এর আগে পাইকের ক্ষমার আবেদন নাকচ করা গভর্নর লি এখন বছরের বাকি সময়ের জন্য টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে ‘বিস্তৃত ও স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা’ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
‘ক্ষয়কারী’ ওষুধ
পাইকের আইনজীবীরা এর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শিরায় ওষুধ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, পাইকের শিরা ছোট এবং তার একটি রক্তজনিত সমস্যা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগ করলে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট হতে পারে।
আইনজীবী র্যান্ডি স্পিভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কর্মীরা পাইকের বাম হাতেই শিরায় ওষুধ দেওয়ার জন্য সাতটি সুচ ব্যবহার করেছিলেন। তার একটি সুচ ব্যর্থ চেষ্টার পর হাত থেকে বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় দেখা যায় বলে তিনি জানান।
আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে সুচ শিরা থেকে সরে যেতে পারে বা শিরা ভেদ করে ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে পাইকের হাতের টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে পেন্টোবার্বিটালকে এমন একটি ক্ষয়কারী পদার্থ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ত্বক, টিস্যু ও শিরা পুড়িয়ে দিতে পারে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় পাইকের দুই হাত ফুলে গিয়েছিল, পুড়ে গিয়েছিল এবং ফোসকা পড়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।
গণমাধ্যমের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পর পাইক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কর্মীদের বলেছিলেন, তার মনে হচ্ছে তার হাত ‘ফেটে যাবে’।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডসংক্রান্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রকাশকারী ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পর বেঁচে যাওয়া প্রথম বন্দি পাইক।
পাইকের মামলাটি তরুণ বয়সে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছিল।
১৯৯৫ সালে পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তিনি তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে একটি চাকরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১৮ জন নারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন