প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়েছেন উর্দু ও আরবি সম্ভাষণ ব্যবহারের কারণে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযোগ দায়েরের কয়েকদিন পর সোমবার তাকে পদ থেকে বদলি করা হয়েছে।
২০২১ ব্যাচের এই নারী কর্মকর্তা খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুশরা বানোর একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সফলতার গল্প শোনান এবং হবু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করেন।
ভিডিওতে বুশরা বানোর ব্যবহৃত "আসসালামু আলাইকুম", "ইনশাআল্লাহ" ও "জাজাকাল্লাহ" শব্দগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে 'হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড' নামে একটি ইসলাম-বিদ্বেষী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। তাদের মতে, ধর্মীয় সম্ভাষণের পরিবর্তে "জয় হিন্দ" বা "বন্দে মাতরম" জাতীয় বাক্য ব্যবহার করা উচিত ছিল।
অভিযোগকারী সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখে, "তিনি ভিডিওটি শুরু করেছেন আসসালামু আলাইকুম দিয়ে, মাঝে ব্যবহার করেছেন ইনশাআল্লাহ এবং শেষ করেছেন জাজাকাল্লাহ বলে। তবে তিনি কোথাও 'বন্দে মাতরম' বা 'জয় হিন্দ' ব্যবহার করেননি।" তারা এই বিষয়ে তদন্তের দাবিও তোলে। এই ঘটনার পর সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বা জনসমক্ষে কথা বলার সময় নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় বা ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত কি না—তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আইপিএস বুশরা বানোর সফলতার পথচলা
ভিডিওটিতে বুশরা বানো মূলত তাঁর সংগ্রাম ও একাডেমিক যাত্রার কথা তুলে ধরেছিলেন। উত্তরপ্রদেশের কনৌজ জেলায় জন্ম নেওয়া বুশরা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের (জেআরএফ) জন্য এনইটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর ভারতে ফিরে এসে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
নিজের সাফল্যের পেছনে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রেসিডেন্সিয়াল কোচিং একাডেমি’র অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি, যারা তাকে স্টাডি মেটেরিয়াল, লাইব্রেরি সুবিধা ও টেস্ট সিরিজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।
২০১৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৭৭তম র্যাঙ্ক অর্জন করে ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিস’-এ সুযোগ পান বুশরা। কিন্তু সে সময় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মদাত্রী হওয়ায় তিনি সেই চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। পরের বছর (২০১৯ সালে) তিনি পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ২৩৪তম র্যাঙ্ক নিয়ে স্বপ্নের ‘ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস’ (আইপিএস)-এ মনোনীত হন।
পুলিশ প্রশাসনে আরও কিছু রদবদল
২০২১ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা হিসেবে বুশরা বানোকে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হুগলি গ্রামীণ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি এবং চলতি বছরের জুনে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান।
রাজ্য সরকারের নতুন এক ঘোষণায় বুশরা বানোর পাশাপাশি খড়গপুরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পার্থ ঘোষকে এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পদে শুভেন্দু মণ্ডলকে বদলি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন