প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ পরিচালনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে বাজারের চাহিদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের পাঠ্যক্রমে একটি ‘প্যারাডাইম শিফট’ আনতে হচ্ছে, যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার আগেই কোনো একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতায় দক্ষ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট ও অন্যান্য সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও এর সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য রাষ্ট্রীয় পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন।
আইসিটির শিক্ষক সংকট নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানালেন, এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনর’ তৈরি করা হচ্ছে।
সিলেবাসের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বললেন, ‘আমাদের বর্তমান সিলেবাস এতটাই পিছিয়ে আছে যে, তা দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। অথচ আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাস করছি এবং এআই নিয়ে আলোচনা করছি। নানা বাধা সত্ত্বেও আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করার জন্য ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলসকে মূল ধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
ড. আমানুল্লাহ আরও জানান, রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো-লার্নিং এবং মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করার কাজ 진행 হচ্ছে।
গোলটেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন হেড অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপস তানজিম ফেরদৌস এবং প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। বৈঠকে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম, শিখোর সিইও শাহির চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন