প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নদীর ওপর প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি বর্তমানে ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। এর মাঝের অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে। কিছু মানুষ বুকসমান পানির মধ্যে দিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ সাঁতার কেটে পার হচ্ছেন। ভাঙা অংশের ওপর দিয়ে পার হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও কিছু মানুষ চেষ্টা করছেন।
এটি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় অবস্থিত বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপরের সাঁকো। প্রায় তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে, কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই কারণে নদীর দুই তীরে অবস্থিত আট গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে তারা নিজেদের উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করতেন, কিন্তু এবারে তা করা হয়নি। এর ফলে বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। প্রায় তিন মাস আগে সাঁকোটির মাঝামাঝিতে অর্ধেক অংশ ভেঙে যাওয়ার পর এলাকার হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজার এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী বলেন, "মাথায় বাদামের বোঝা নিয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে নদী পার হচ্ছি। খালি ছবি তোলেন বাহে। দুই-তিন মাস ধরে এত কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি। ছেলে-মেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমরা আর এ দুর্ভোগ সহ্য করতে পারছি না। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হোক।"
স্থানীয় মুদি দোকানি আকাশ মাহমুদ জানান, "এলাকার দেড়-দুই শ শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদরাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে।"
বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সবুজ মিয়া এবং কলেজ শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও মঈনুদ্দিন জানান, সাঁকোটির অবস্থা করুণ। স্কুল-কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। বিকল্প সড়কও নেই। কখনও সাঁতার কেটে, কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো পার হতে হচ্ছে। পারাপারের সময় অনেকেই পড়ে গেছে। বড়রাও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন