প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য কোনো প্রার্থীকে বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হয়। এই নির্বাচনে সংসদ বা ইলেকটোরাল কলেজের কোনো ভূমিকা নেই। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হতে হচ্ছে দুই শীর্ষ প্রার্থীকে।
এই দুই প্রার্থীর একজন হলেন বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, যিনি সাধারণত লুলা নামে পরিচিত। অপর প্রার্থী হলেন প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া কট্টর ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর জইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনি অভ্যুত্থানের ব্যর্থ ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। তবে তিনি তার ছেলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্লাভিও নির্বাচিত হলে তিনি নিজেও কারামুক্তির আশা করছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্টের।
ফ্লাভিও পেশায় আইনজীবী এবং রিও ডি জেনিরোর সাবেক সিনেটর। ২০২২ সালের নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় জইর বলসোনারোকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন লুলা। সে সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে লুলার শক্তিশালী জনসমর্থন ছিল, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে বলসোনারো এগিয়ে ছিলেন। প্রথম দফায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি মিনাস জেরাইস রাজ্যেও জয়ী হয়েছিলেন লুলা।
তবে ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে মিনাস জেরাইসে লুলাকে পেছনে ফেলেছেন ফ্লাভিও। ওই রাজ্যে ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট, যেখানে লুলার ভোটের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় জয়ী হওয়ার নজির নেই। এই কারণে এবারের নির্বাচন লুলার জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তবে প্রথম দফার ভোটের পর বলসোনারোর বিরোধিতায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বড় ধরনের বিক্ষোভ লুলার শিবিরকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করেছে। রোববারের দ্বিতীয় দফার ভোটে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আশা করছেন তার সমর্থকেরা।
ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্ট লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন। ২০২৩ সালে আবারও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার তার বয়স ৮১ বছর পূর্ণ হবে। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারোর বয়স ৪৫ বছর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন