প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সোমবার বেইজিংয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং দেশটির শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় ৩০০ সদস্য পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন বা ‘পঞ্চম প্লেনামে’ অংশগ্রহণ করছেন।
বৈঠকে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে দুর্নীতি হ্রাস এবং দলীয় কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ ও অনুগত করে তোলার পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিস্তারিত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ করা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বৈঠকটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়কালকে নির্দেশ করছে। আগামী বছর কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই কংগ্রেসে ৭৩ বছর বয়সী সি চিন পিং চতুর্থ মেয়াদে নেতৃত্ব পাওয়ার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল তদারক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সি চিনপিংয়ের ক্ষমতা আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চীনের এই নেতা গত ১৪ বছর ধরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছেন। এ অভিযানে কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েক ডজন সদস্যসহ হাজার হাজার কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে।
তবে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছেন না— এমন কর্মকর্তাদের নিয়ে সি এখনও অসন্তুষ্ট। পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গত জানুয়ারিতে দেওয়া শি জিনপিংয়ের একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
সেখানে তিনি এমন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন, যারা প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে চলার ভান করেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তা প্রতিরোধ করেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া ও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও তোলেন।
এএফপিকে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, সি চিন পিং আরও কঠোর তদারকি ও নিয়মকানুন আরোপের মাধ্যমে দলীয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য বাড়াতে চাইছেন। তবে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের কারণে এবারের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে উপস্থিতির হার ১৯৭৬ সালে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর পর সর্বনিম্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির আটটি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। আরও ১৫ জন সদস্য তদন্তের আওতায় রয়েছেন এবং তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সি চিন পিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সামরিক বাহিনীতেও বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বদানকারী দলীয় সংস্থা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) সাত সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়োগ পাওয়া ৪৪ জন সামরিক সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজনকে এখনও অপসারণ করা হয়নি বা তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এবারের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনে নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে দলটি আগামী বছরের কংগ্রেস পর্যন্ত অপেক্ষা করে শূন্য পদ পূরণ করতে পারে। এমনকি বিশাল সামরিক বাহিনীর ওপর দলের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগও নিতে পারেন সি চিনপিং।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন