প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক তথ্য ফাঁসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ‘জয়েন্ট স্টাফ’-এর প্রায় ৫০ জন সদস্যকে ‘লাই ডিটেক্টর’ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার (পলিগ্রাফ টেস্ট) মুখোমুখি হতে হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক ও সামরিক কর্মীদের দ্বারা সাংবাদিকদের কাছে গোপনীয় তথ্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ক তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
গত মাসে পলিগ্রাফ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা তখন ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে দাবি করেছিলেন, তাদের অস্ত্রের মজুদ প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট রয়েছে।
এনওয়াইটি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বা তদন্তমূলক পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে তাদের বিভাগ ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে এবং সে অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা করে’।
পার্নেল আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বজুড়ে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গোপনীয় তথ্যের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়েন্ট স্টাফের সদস্যসংখ্যা ১,৫০০ থেকে ২,০০০-এর মধ্যে এবং এতে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের কর্মী রয়েছেন। এই সদস্যরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কমব্যাট কমান্ডের (যুদ্ধ-পরিচালনাকারী কমান্ড) সঙ্গে কার্যক্রমের কৌশল, নীতিমালা ও যুদ্ধ-পরিকল্পনা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
তদন্তের বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, এই কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল কেবল তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করা নয়, বরং ভবিষ্যতে যারা তথ্য ফাঁস করতে পারে তাদের নিরুৎসাহিত করাও। আইন ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তদন্তের ব্যাপ্তি অভূতপূর্ব; কারণ আধুনিক ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর কখনোই এমন ব্যাপক পরিসরে পলিগ্রাফ পরীক্ষা চালানো হয়নি।
ইরান সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে সংকট এবং সংঘাতের সামগ্রিক গতিপথ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যাপক সংবাদ প্রকাশের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন তথ্য ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন।
কঠোর পদক্ষেপের আহ্বানের পাশাপাশি, গোলাবারুদের ঘাটতি এবং ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত পরিচালনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সমালোচনামূলক প্রতিবেদনগুলোকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ‘দেশদ্রোহিতামূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ধারাবাহিকভাবে তথ্য ফাঁসের ঘটনা পেন্টাগনের ভেতরে গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা এর জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ব্যবস্থাপনা শৈলীকে দায়ী করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি ছোট বৃত্ত নিয়ে কাজ করা হেগসেথ তার দায়িত্বকালে অন্তত ৮০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন অথবা তাদের পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন। হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের জেরে পেন্টাগন তথ্য ফাঁস সংক্রান্ত একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। অথচ হেগসেথ নিজেই ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের একটি গ্রুপ চ্যাটে স্পর্শকাতর ও গোপনীয় অভিযানের বিবরণ শেয়ার করার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
গত মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগ যখন ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি স্বাধীন সামরিক সংবাদ প্রকাশনা এর প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশককে বরখাস্ত করে, তখন অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কর্মীরা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করার কারণেই মূলত এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এত সব মতবিরোধ ও উত্তেজনা সত্ত্বেও ট্রাম্প হেগসেথের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন এবং প্রকাশ্যে তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে একে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন