প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আবশ্যক। যদি ঘটনা সত্য প্রমাণিত হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী হন, তাহলে তার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অভিযোগের তদন্ত কিভাবে হবে এবং কে করবে, সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব সোমবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘এই কথা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা—সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। তবে, মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায়, মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ আসলে ইসলামপন্থি সকল মানুষের দায়দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় বেড়ে যায়। ইসলাম শুধু মুসলমানদের মুক্তির জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবতার মুক্তির জন্য এসেছে। ইসলামী রাজনীতির ধারণা সেকুলার সিস্টেমের শোষণ নিপীড়নের বিপরীতে ইসলামী সিস্টেম মানুষের মুক্তির পথকে সুগম করতে পারে—এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। আর যদি ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হন এবং এরপর ন্যায়বিচার না পান, তাহলে এর চাইতে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।
যেকোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সেই আলোচনায় না গিয়েও বলা যায় যে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত এবং বিচারের জন্য একটি কার্যকর সিস্টেম নেই। অথচ বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক বড় বড় আলেম আছেন এবং দেশে অনেক ইসলামি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাই, যদি আপনারা সবাই মিলে ইসলাম শেখার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে মানুষ কেন বিশ্বাস করবে যে আপনারা যে ধর্ম প্রচার করেন এবং যে রাজনীতি করেন, তা মানুষের মুক্তির জন্য কার্যকর হবে?
ইউসুফ (আ.)কে মিশরের রাজা জেলখানা থেকে বের করে এনে ক্ষমতা দিয়েছিলেন, কারণ তিনি রাজার স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে, সাত বছর পরে মিশরে দুর্ভিক্ষ হবে। এবং সেই দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাবতীয় ব্যবস্থা কিভাবে করতে হবে, তার বিস্তারিত গাইডলাইনও তিনি দিয়েছিলেন।
দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদ তৈরি না করে মানুষের সমাজে কিভাবে ইনসাফ কায়েম হবে এবং কিভাবে মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান হবে—সেই বিষয়গুলো দেখানোই নেতৃত্বের মূল কাজ। ঘরের সমস্যা সমাধান না করতে পারলে, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান কিভাবে হবে?
ইসলামপন্থি সকল রাজনৈতিক দল এবং দেশের সম্মানিত আলেমগণ—আপনারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এখনই সিরিয়াস হন। এখন আর দেশ আওয়ামী লীগ চালায় না, আপনাদেরকে কেউ মার্জিনালাইজড করে রাখে না। সমস্যাকে উপেক্ষা করবেন না, অস্বীকার করবেন না, বরং সমস্যাকে স্বীকার করুন, কারণ আইডেন্টিফাই করুন, সমাধান করুন এবং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করুন। নিজেদের সততা এবং সক্ষমতা জাতিকে দেখান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন