প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA) ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ছবিটির নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের বিরুদ্ধে সরকারি পর্যায় থেকে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
এই তথ্যচিত্রটি গাজায় সামরিক হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বেনামি সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা জানা থাকা সত্ত্বেও কিছু হামলা অনুমোদনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
১০ সেপ্টেম্বর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ছবিটি বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করে। প্রদর্শনের পর প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পাওয়ার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে ছবিটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার নির্মাতাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের আহ্বান জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ছবিটির সমালোচনা করেন।
এদিকে, ছবিটির নির্মাতারা ইসরায়েলেই ‘নাজা’ প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, ছবিটি ইসরায়েলি দর্শকদের জন্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে ছবিটির সাংবাদিকতার মান, বেনামি সূত্রের ব্যবহার এবং এতে উপস্থাপিত অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে লেখক ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি যুক্তি দিয়েছেন, ইসরায়েলি সমাজের একটি অংশ ছবিটির বিষয়বস্তু দেখার আগেই তা প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর মতে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার কারণে অনেক ইসরায়েলি নতুন সমালোচনাকেও বিদেশি চাপ বা ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
নিবন্ধটিতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিক রাভিভ দ্রুকারের সঙ্গে ইউভাল আব্রাহামের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ছবিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কেন আরও হয়নি, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটির সাংবাদিকতার মান ও নির্মাতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকদের একাংশের সমালোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ‘নাজা’ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা অনেক অভিযোগ এর আগে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোর ওপরও ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
ছবিটির নাম ‘নাজা’ ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি পরিভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় বলে ছবিটির নির্মাতা ও উৎসগুলো জানিয়েছেন। তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী এখন ইসরায়েলের বাইরেও অব্যাহত রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটির উত্তর আমেরিকা প্রিমিয়ার হওয়ার কথা রয়েছে।
আল জাজিরার ওই বিশ্লেষণে মূলত যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ‘নাজা’ নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া শুধু একটি চলচ্চিত্রের বিতর্ক নয়; বরং গাজা যুদ্ধের সামরিক কর্মকাণ্ড, বেসামরিক হতাহত এবং এসব নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি সমাজের একটি অংশ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটিও এর মাধ্যমে সামনে এসেছে। এটি লেখকের বিশ্লেষণ, সর্বজনীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন