প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালীর অবদান বহুমাত্রিক। উপকূলীয় বনের সবুজ বেষ্টনী নদীর দু’পারে অবস্থিত জনবসতিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে আসছিল। একসময় এ নদীতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রচুর পরিমাণে উপস্থিতি ছিল। কিন্তু দখল ও দূষণের কারণে নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তাই বাকঁখালী নদীকে এ সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) কক্সবাজার শহরের প্রধান নদী বাঁকখালীকে দখল ও দূষণের কবল থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত ‘দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত বাঁকখালী নদী: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুল রহমান, এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমান। এছাড়া নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বেলার লিগ্যাল কোঅর্ডিনেটর এস. হাসানুল বান্না।
সভায় পরিবেশকর্মী শান্তনূর মন্তব্য করেন, বাকঁখালী নদীর কস্তুরা ঘাটে প্যারাবন কেটে দখল হওয়া জায়গা দখলমুক্ত করা সম্ভব হলেও, প্যারাবন আর ফিরে আসেনি। তিনি প্যারাবন ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি সুনীল বড়ুয়া জানান, বাঁকখালী নদীর রামু চেংরাঘাটা অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। তিনি তামাক চাষও চলছে উল্লেখ করে বালু উত্তোলন ও তামাক চাষ বন্ধের অনুরোধ জানান।
সংবাদকর্মী সৌরভ দেব বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অবৈধ দখলদারদের বৈধতা দেয়। তিনি অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং এসিল্যান্ড অফিস কর্তৃক খাজনা নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, বাঁকখালী নদীর সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, নাহলে সমস্যাগুলো সমাধানের অযোগ্য হয়ে যাবে। তিনি নদীর দূষণমুক্ত পানি মানুষের প্রয়োজন এবং ফসল উৎপাদনের জন্যও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, বাকঁখালী নদীতে ৩৫ প্রজাতির মাছ ও ১০ প্রজাতির অন্যান্য জলজ প্রাণী রয়েছে। নদীকে দূষণমুক্ত না করতে পারলে এসব মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তরল বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে দূষিত করছে, যার প্রভাব খাদ্য শৃঙ্খলেও পড়ছে। তিনি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমান কক্সবাজারে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা এবং নদী দখল-দূষণ নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের জ্বলন্ত উদাহরণ হলো এ নদী। নদী রক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে, সে বিষয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি যেসব জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছিল, সেগুলো যথাযথ সংরক্ষণের তাগিদ দেন। বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত না হলে শহরে জলাবদ্ধতার মতো নানা রকম ঝুঁকির আশঙ্কা করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন