প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলা করতে এবং বিপুলসংখ্যক প্রত্যাবাসিত মানুষের পুনর্বাসনে আফগানিস্তানের নারী ও পুরুষ উভয়ের মেধা ও সক্ষমতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের দুই জ্যেষ্ণ কর্মকর্তা।
আফগানিস্তানের নাহর-ই-শাহি থেকে এএফপি জানায়, তারা সোমবার বলেন, দেশে এখনকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমাজের সব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো ছাড়া বিকল্প আর নেই।
২০২১ সালে তালেবান কাবুলে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং অবসর-সংক্রান্ত নানা কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে, ফলে তাদের জনজীবনের বহু ক্ষেত্র থেকে কার্যত বাদ দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রো বলেন, ‘সব মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। এর মধ্যে যেমন পুরুষদের মেধা রয়েছে, তেমনি নারীদের মেধাও রয়েছে।’
উত্তর আফগানিস্তানের নাহর-ই-শাহিতে সম্প্রতি দেশে ফেরা নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া একটি কার্পেট বয়নকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পাকিস্তান ও ইরান অভিবাসননীতি কঠোর করার পর এ পর্যন্ত ৬০ লাখেরও বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
দীর্ঘ কয়েক দশকের যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাবর্তনের কারণে আবাসন, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ডি ক্রো আফগান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেয়ে ও নারীদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তালেবান সরকার নারীদের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার পর পড়াশোনার সুযোগ বন্ধ করা, বিভিন্ন পেশায় কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পার্কে প্রবেশের ওপর বাধা।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তালেবান সরকার জাতিসংঘের দপ্তরগুলোতেও নারীদের কাজ করা নিষিদ্ধ করেছে। জাতিসংঘ এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে আসছে।
আফগানিস্তান সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এএফপিকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি আফগানিস্তানের মানুষের জন্য আমাদের সেবা পৌঁছানোর সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।’
তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাবুলে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে জাতিসংঘের নারী কর্মীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবেন।
সালিহ বলেন, ‘আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। তবে আমাদের কার্যকরভাবে সহায়তা করতে হলে সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সমাজের সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আর এর জন্য নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে সবারই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখার সুযোগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ ছাড়া আফগানিস্তানের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এদিকে, গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বিধিনিষেধের কারণে আফগানিস্তানের প্রতি বছর অন্তত ৮ কোটি ৪০ লাখ (৮৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন