প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলার শেষ হওয়ার প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের দোসর সবুজ অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন এবং টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। এ ধরনের অনিয়ম ও জুলুমের ফলে দুর্দশায় রয়েছেন প্রায় ২০০ স্টলের পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও কর্মচারী।
এছাড়া, প্রতিবাদ করায় কয়েকজন উদ্যোক্তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে, আঘাতপ্রাপ্তরা বুধবার (১৫ জুলাই) বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুন খন্দকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মেলার শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিতর্ক চর্চিত হয়েছে। ব্যবসার জন্য নানা প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এখানে আনা হয়েছিল। উদ্যোক্তারা উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ মে নগরীর পরেশসাগর মাঠে 'বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড'-এর উদ্যোগে এই শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার অনুমোদনের মেয়াদ ছিল ২৬ জুন পর্যন্ত। পরে ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সময় বৃদ্ধি না হলে তাদের মালামাল নিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
স্টল মালিক মো. সাগরসহ অনেকের অভিযোগ, মেলা শেষে মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র চাইলে আওয়ামী লীগের দোসর সবুজ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। টাকা না দেওয়ার কারণে তাদের মালামাল বের করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে এবারের মেলায় আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। তারা লোকসানে পড়েছেন, এরপরও চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত স্টল ভাড়া পরিশোধ করেছেন। অতিরিক্ত টাকা দাবি করা তাদের মতে অন্যায় ও অমানবিক।
ভুক্তভোগী উদ্যোক্তারা বুধবার সকালে এই টাকা দাবির প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত সবুজের নির্দেশে বহিরাগত লোকজন নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন উদ্যোক্তা আহত হন। পরে তারা বাধ্য হয়ে মেলা প্রাঙ্গণের বেড়া ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তাদের দ্রুত মালামাল উদ্ধার ও বাড়ি ফেরার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত সবুজ, যিনি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দিন ইসলাম, মেলা কমিটির সদস্য, মালামাল আটকে রাখার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, “ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই ১৫ জুলাই থেকে চার দিনের জন্য মেলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কাউকে জোর করে আটকে রাখা হয়নি।” মারধরের ঘটনা ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে এবং তা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে।
এবায়দুল হক চাঁন, বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি, জানান, “মেলার সময় বৃদ্ধি করা হয়নি, কয়েকদিন আগে মেলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্টল সংক্রান্ত অর্থনৈতিক বিষয় উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা এই অনিয়ম ও হয়রানির দ্রুত অবসান ঘটিয়ে নিরাপদে তাদের মালামাল নিয়ে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা চান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন