প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তিন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর সকলেই অকৃতকার্য হওয়ায় উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাদান ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এবারে একজন ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মোট আটজন শিক্ষক কর্মরত আছেন।
অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কেউই পাস করতে পারেননি। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাসসহ মানবিক বিভাগের মোট ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি বা বেতন-ভাতা চালু হয়নি। এ কারণে অভিযোগ উঠেছে যে শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করেন না। নামমাত্র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও অনেকেই অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া জানান, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মোট আটজন শিক্ষক যোগদান করেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সম্প্রতি শিক্ষকদের অনেকেই আর নিয়মিত পাঠদান করতে আসেন না।
অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, এবারে মানবিক বিভাগ থেকে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গিয়েছিল। এ কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার প্রামাণিক বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সকলেই অকৃতকার্য হয়েছেন, যা হতাশাজনক। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন